Logo
শিরোনাম :
চাঁপাই নবাবগন্জের ভোলাহাটে বর বদল তুমব্রু দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটি কর্তৃক সংবর্ধিত নব-নির্বাচিত ইউপি সদস‌্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১০ মাদক সেবী আটক টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার উঠে গেছে সংকেত, কক্সবাজার ফিরতে পারেন সেন্টমার্টিনে আটকা পর্যটকরা চকরিয়া থানায় হঠাৎ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ফাতির পায়ে এল ক্লাসিকোতে বার্সার ‘৪০০’ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের বর্ণাঢ্য জীবন ছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, পালিয়েও রক্ষা হলো না মাদ্রাসা সুপারের ফেসবুকে মাদ্রাসাছাত্রীর ‘বিকৃত ছবি’ প্রকাশঃআটক-২

অনেকের সঙ্গে কাজের স্মৃতি জড়িয়ে আছে’মৌসুমী

মানবজমিন / ৩৭ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

 

আরিফা পারভিন জামান মৌসুমী। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী সবার কাছে মৌসুমী নামেই বেশি পরিচিত। প্রথম সিনেমাতে অভিনয় করেই বাজিমাত করেছিলেন তিনি। ছবির নামটাও সবার জানা। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। প্রয়াত জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ ও মৌসুমী অভিনীত এ ছবিটি মুক্তির পর সেসময় ব্যাপক ব্যবসা সফলতা পায়। চলচ্চিত্রে ২৭ বছর পার করেছেন মৌসুমী। তবুও তার জনপ্রিয়তা কমেনি।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক, টেলিছবিতে অভিনয় এবং সিনেমা পরিচালনায়ও দেখা গেছে মৌসুমীকে। অভিনয় করেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায়। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বেশ কয়েকটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তার কাজের নানান সময়ের অভিজ্ঞতার ঝাঁপি মেলে ধরেন পাঠকদের কাছে। বিশেষ করে এফডিসিতে কেটেছে তার লম্বা সময়। এক সেট থেকে আরেক সেটে কাজ করতে করতেই পার হত তার দিন-রাত। তবে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)’র আয় বাড়ানো এবং আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে তিন ও চার নম্বর শুটিং ফ্লোর।

মৌসুমী বলেন, এফডিসিজুড়ে রয়েছে আমার অসংখ্য কাজের স্মৃতি। বলে শেষ করা যাবে না। এরমধ্যে বলতে হয় আমার প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার কথা। সোহানুর রহমান সোহান ভাইয়ের পরিচালনায় এ সিনেমার শুটিং হয় এফডিসির ৩ নম্বর শুটিং ফ্লোরে। এ সিনেমায় আমার বাড়ির সেট পড়েছিল এখানে। পুরো সেটে অনেকের সঙ্গে কাজের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। এছাড়া ‘স্বজন’ সিনেমার গানের শুটিং হয় চার নম্বর ফ্লোরে। অনেক কাজ হয়েছে ৩ ও ৪ নম্বর ফ্লোরজুড়ে। মৌসুমী আরও বলেন, ‘বিদ্রোহী বধু’ সিনেমার জেলখানার শুটিং, ‘ক্ষুধা’ সিনেমার ‘আশে পাশে কেউ নেই’, ‘লজ্জা’ সিনেমার ‘তুমি যে কখন এসে মন চুরি করেছো’সহ বেশকিছু সিনেমার গানের শুটিংসহ অনেক কাজের কথা মনে পড়ছে আজ। চার নম্বর ফ্লোরে সালমানশাহ’র সঙ্গে ‘দেনমোহর’ সিনেমার বাসর রাতের শুটিং হয়েছিল। সেটিও আজ মনে পড়ছে।

এজে মিন্টু ভাইয়ের পরিচালনায় ওমর সানীর সঙ্গে ‘প্রথম প্রেম’ সিনেমার শুটিং হয়েছিল ৩ ও ৪ নম্বর ফ্লোরে। ‘কুখ্যাত খুনী’ সিনেমার ‘এই হৃদয়ের সাদা কাগজে’ গানটির শুটিং হয়েছিল চার নম্বর ফ্লোরে। মান্না ভাইয়ের সঙ্গে করা এ গানটি দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। এছাড়া শুটিং এর বাইরে মৌসুমী বিভিন্ন শুটিং সেটে আড্ডাও দিয়েছেন বলে জানান। বিশেষ করে নায়ক আলমগীরের পরিচালনায় ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবির কথা জানালেন মৌসুমী। তিনি বলেন, এফডিসির তিন নম্বর ফ্লোরে যখন কলকাতার ঋতুপর্ণা শুটিং করার জন্য ঢাকায় এসেছিল সেসময় আমি, ওমরসানীসহ আড্ডা দিয়েছিলাম এফডিসির এই ফ্লোরে। কাজসহ নানা বিষয়ে সবশেষ সেখানে আমাদের কথা হয়েছিল। এখন তো আর ফ্লোরটা নেই। ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে বলে জানলাম। মান্না ভাইয়ের সাথে (নায়ক মান্না) ‘আম্মাজান’ ছবিতে ও শাবানা ম্যাডামের সাথে ‘শান্তি চাই’, আলমগীর ভাইয়ের সঙ্গে ‘স্নেহের বাঁধন’সহ বেশকিছু সিনেমার কাজ হয়েছে ৩ ও ৪ নম্বর ফ্লোরে। কাজ করতে গিয়ে জীবনের অনেকটা সুখের সময় এসব ফ্লোরে কেটেছে মৌসুমীর। ২০১৩ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ সিনেমার একটি সিকুয়েন্স হয়েছিল এফডিসিতে। শাবনূর ও মৌসুমীর এক ফ্রেমে এটাই ছিল সবশেষ কাজ।

মৌসুমী বলেন, একের পর এক স্মৃতির কথা মনে পড়ছে আজ। অনেক ছবির শুটিং আজ চোখের সামনে ভাসছে। এফডিসির চার নম্বর ফ্লোরে হয়েছে ‘দেবদাস’ সিনেমার কাজ। প্রয়াত গুনী নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম এ ছবিটি পরিচালনা করেন। ‘আদরের সন্তান’ ছবির শুটিং হয়েছিল ৪ নম্বর ফ্লোরে। ‘ঘাত প্রতিঘাত’ ও ‘সাজঘর’ ছবির শুটিং হয়েছিল ৩ নম্বর ফ্লোরে। আমার পরিচালনায় ‘মেহেরনিগার’ সিনেমার কাজ হয়েছে ৪ নম্বর ফ্লোরে। ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ ছবিতে পরিচালক হিসেবে ৬টি ক্যাটাগরিতে ৬টি জাতীয় পুরস্কার জিতেন মৌসুমী। আর শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ‘মেঘলা আকাশ’, ‘দেবদাস’ ও ‘তাঁরকাটা’ সিনেমায় পেয়েছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এফডিসির এসব ফ্লোরে কাজের স্মৃতির শেষ নেই ঢালিউডের এই মহারানীর। সেই ফ্লোর দুটি ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে এখন। বাংলা চলচ্চিত্রের এ প্রিয়দর্শিনী বলেন, ৩ নম্বরে সকালে শুটিং করলে বিকেলে ৪ নম্বর ফ্লোরে সেট পড়েছিল। এভাবে দিন-রাত কাজ হতো আমাদের। সেই ফ্লোর দুটি ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে শুনে খুব খারাপ লেগেছে। আমি কয়েকদিন আগে এটা শুনেছি। কত স্মৃতি যে জমা রয়েছে আমাদের এখানে তা বলে শেষ হবে না। এখন এফডিসিতে গেলে ওই শুটিং ফ্লোর দুটি দেখতে পাবো না। এটা ভেবেই খারাপ লাগছে আমার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর