Logo
শিরোনাম :
“বাংলাদেশ ইয়ূথ ক্যাডেট ফোরাম (বিওয়াইসিএফ) কক্সবাজার জেলা কমিটি ঘোষণা, অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত “ টেকনাফে বিজিবির হাতে দশ হাজার ইয়াবা নিয়ে মৎস্যজীবীলীগ নেতা জসিম আটক রামুতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্র পোল্ট্রি খামার,জীবনযাত্রায় অস্বস্তি! পোকখালী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সম্মেল ও কাউন্সিল সম্পন্ন বিয়ের সিদ্ধান্তে ঘরছাড়া দুই তরুণী, অতঃপর.,, টেকনাফে এনজিও সংস্থার দখল থেকে খেলার মাঠ ফেরত চান শামলাপুরবাসী সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে…. কক্সবাজার সদর যুবলীগের বর্ধিত সভা ৩০ অক্টোবর ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিকী সম্মেলন ও কাউন্সিল ৩০ অক্টোবর রাইখালীতে প্লাস্টিকের বস্তায় ২’শ লিটার মদ পাচারের সময় নারী মাদক বিক্রেতা আটক নির্বাচনের আগেই বান্দরবান পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু, প্রায় ৭৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে বান্দরবান পৌরসভা

সিনহা হত্যা : স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিচ্ছেন পুলিশের চার সদস্য

কক্সবাজার প্রতিনিধি।  / ৪৯ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ-লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলালদের সহযোগী আসামী পুলিশের অপর চার সদস্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন।

দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে র‌্যাবের একটি দল তাদের কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করেছে। আদালতের খাস কামরায় দুপুর থেকে তাদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়। এর আগে সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ চার আসামীরা হলেন, পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন।

র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সিনহা হত্যা মামলার আসামী পুলিশের চার সদস্যকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২৪ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন আদালত। আদালতের আদেশ পেয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের চার সদস্যদের দ্বিতীয়দফা রিমান্ডের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে র‌্যাব। বুধবার চার দিনের রিমান্ড শেষে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় আদালতে আনা হয়েছে।

এর আগে উক্ত মামলায় বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলালকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রদীপকে চার দফায় ১৫ দিন এবং লিয়াকত ও নন্দ দুলাল রক্ষিতকে তিন দফায় ১৪ দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়। লিয়াকত ও নন্দ দুলাল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও প্রদীপ রাজি হননি। তারা সবাই এখন কারাগারে রয়েছেন। এপিবিএন এর ৩ সদস্য সহ এপর্যন্ত আটজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ চারজনের জবানবন্দি সম্পন্ন হলে এ মামলায় ১২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাবেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি মারিশবুনিয়ার একটি পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলার আসামি ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়। সিনহা হত্যার পর পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। এছাড়া হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিন এপিবিএন সদস্যকে গ্রেফতার করে এলিট ফোর্সটি। এনিয়ে মোট তের আসামী কারান্তরিণ। অপর দিকে, একই ঘটনায় টেকনাফ থানায় দুইটি ও রামু থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। সাক্ষী অপহরণের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পরে আরেকটি মামলা হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫টি মামলা হয়েছে। যার চারটি তদন্ত করছে র‌্যাব-১৫।

অপরদিকে, সিনহা হত্যার ঘটনায় পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ২ আগস্ট এ কমিটি গঠন করা হয় এবং কার্যক্রম শুরু করে ৩ আগস্ট। সাত কর্ম দিবস অর্থাৎ ১০ আগস্ট কমিটিকে প্রতিবেদন জমাদানের সময় বেধে দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর প্রথমবার কমিটির সময় বাড়ানো হয় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। পরে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বক্তব্য গ্রহণ করতে না পারায় কমিটির মেয়াদ সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২ সেপ্টেম্বর কমিটি কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রদীপ কুমার দাশের বক্তব্য গ্রহণ করেন। এরপর কমিটি ১৩ সুপারিশসহ ৮০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরী করে। সাথে সংযুক্তি দেয়া হচ্ছে ৫৮৬ পৃষ্ঠা। তা ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদন দেয়া হলেও এ ঘটনার মুল মামলা চলছে আদালতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর