Logo
শিরোনাম :
রামুতে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ও বাঁক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার টেকনাফে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ১ টেকনাফে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস দুর্নীতির মামলায় অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত ঢাকা- নওগাঁ উপ-নির্বাচনের ফলাফল প্রত‌্যাখান করে বান্দরবান জেলা বিএনপির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ পেকুয়ায় বড় ভাই ছোট ভাইকে কামড়িয়ে আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন মেম্বারের নেতৃত্বে অন্তঃসত্তা নারীর উপর হামলা ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগ নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থল মাইন ধ্বংস করলেন সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল উখিয়ার রাজাপালং ৯নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন কাল : ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস ঈদগাঁওতে শেখ রাসেল স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে মহেশখালীর কাছে ধরাশায়ী কক্সবাজার

মিয়ানমারের মানচিত্র থেকে উধাও রোহিঙ্গা গ্রাম!

বিদেশ ডেস্ক / ২৮ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তিন বছর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কান কিয়া নামক রোহিঙ্গা গ্রামটি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ধ্বংসাবশেষের উপরও চালিয়েছিল বুলডোজার। তাতেও থামেনি তারা। শেষ পর্যন্ত গত বছর সরকারি মানচিত্র থেকেও মুছে দেওয়া হয়েছে গ্রামটির নাম। জাতিসংঘকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

নাফ নদী থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে কান কিয়া গ্রামের অবস্থান। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগে গ্রামটিতে বাস করতো কয়েক’শ মানুষ।২০১৭ সালে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে মিয়ানমারের সেনা অভিযানের সময় কান কিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে সেখানকার বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। পুরো গ্রাম আগুনে পুড়ে যায়।এবারজাতিসংঘ জানিয়েছে, গত বছর মিয়ানমার সরকার দেশের নতুন যে মানচিত্র তৈরি করেছে সেখানে কান কিয়া গ্রামের অস্তিত্ব নেই। মানচিত্র থেকে গ্রামটির নাম ‍মুছে ফেলা হয়েছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের ‘ম্যাপিং ইউনিট’ ২০২০ ‍সালে দেশটির নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে। মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্রের ভিত্তিতে জাতিসংঘের ‘ম্যাপিং ইউনিট’ নিজেদের মানচিত্র তৈরি করে। ইউএনএইচসিআর-সহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ওই মানচিত্র ব্যবহার করে। জাতিসংঘ জানায়, মিয়ানমারের নতুন ‍মানচিত্রে গুঁড়িয়ে ফেলা গ্রামের নাম আর নেই। বরং ওই জায়গাটিকে এখন কাছের মংডু শহরের বর্ধিত অংশ বলা হচ্ছে।

গুগল আর্থ-এ প্রকাশিত স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, কান কিয়া গ্রামটি আগে যেখানে ছিল সেখানে এখন বেশ কিছু সরকারি ও সামরিক ভবন গড়ে উঠেছে। পুলিশ ঘাঁটির জন্য দেওয়া আঁকাবাঁকা বেড়াও দেখতে পাওয়া গেছে। ‘প্ল্যানেট ল্যাব’ থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছেও এ ধরনের কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। ৯০ দশকে পালিয়ে আসা আরও ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গা তো আগে থেকেই ছিল। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কেবলই এক প্রহসন হিসেবে হাজির রয়েছে।

২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মিয়ানমার কর্তৃক জোরপূর্বক রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন ও সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ২০২০ সালের জানুয়ারিতে গণহত্যা প্রতিরোধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ ঘোষণা করে। তবে কিছুই মানেনি মিয়ানমার। দেশের ভেতরে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ তদন্তের জন্য জাতিসংঘকেও অনুমতি দেয়নি তারা। নিজেরাও সামরিক নৃশংসতার বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য কোনও তদন্ত চালায়নি।

সূত্র,বাংলা ট্রিবিউন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর