Logo
শিরোনাম :
চাঁপাই নবাবগন্জের ভোলাহাটে বর বদল তুমব্রু দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটি কর্তৃক সংবর্ধিত নব-নির্বাচিত ইউপি সদস‌্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১০ মাদক সেবী আটক টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার উঠে গেছে সংকেত, কক্সবাজার ফিরতে পারেন সেন্টমার্টিনে আটকা পর্যটকরা চকরিয়া থানায় হঠাৎ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ফাতির পায়ে এল ক্লাসিকোতে বার্সার ‘৪০০’ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের বর্ণাঢ্য জীবন ছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, পালিয়েও রক্ষা হলো না মাদ্রাসা সুপারের ফেসবুকে মাদ্রাসাছাত্রীর ‘বিকৃত ছবি’ প্রকাশঃআটক-২

দীর্ঘ ৭ মাস পর খুলে দেওয়া হয়েছে বান্দরবানের সবগুলো পর্যটন কেন্দ্র।। বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা করোনায় পর্যটন খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আরো বেশ সময় লাগবে

বান্দরবান প্রতিনিধি / ৫৭ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য জেলা বান্দরবান আবারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ সাত মাস বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বান্দরবানের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত। তবে পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হওয়ায় জেলার সবগুলো পর্যটনকেন্দ্র এখন খুলে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে চিম্বুক পাহাড়ের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরি। এর আগে বান্দরবান শহরের কাছে নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, চিম্বুক, নীল দিগন্ত সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয় প্রশাসন। এছাড়া জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা, থানছি, আলীকদম সহ এসব এলাকার পাহাড়ি ঝরনা গুলোতেও পর্যটকের আগমন বেড়েছে। পর্যটকদের আগমন বাড়ায় আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক খাতটি। তবে পর্যটক ব্যবসায়ীরা বলছেন এখনো পরিস্থিতি পূর্বের মত স্বাভাবিক হতে আরো বেশকিছু সময় লাগবে। যে তুলনায় পর্যটক আসছে তা স্বাভাবিক নয়। তবে পর্যটকের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। দেশের অন্যান্য জায়গায় বান্দরবানের আগে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রশাসন এযাবত বন্ধ রেখেছিল বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। গত ২১ আগস্ট খুলে দেওয়া হয় বান্দরবানের প্রশাসনের পরিচালিত নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক ও চিম্বুক পর্যটন কেন্দ্র। তবে চিম্বুক পাহাড়ের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের আগমন অনেকটাই কম ছিল। তবে সেনাবাহিনী পরিচালিত অন্যতম এই পর্যটন কেন্দ্রটি খুলে দেওয়ায় পর্যটকদের আগমন আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এছাড়া থানছি উপজেলার রেমাক্রি, তিন্দু, নাফাখুম, রুমা উপজেলার বগালেক, কেওক্রাডং, রিজুক ঝর্ণা সহ বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকদের পদচারণা বেড়েছে। জেলার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল দাস জানিয়েছেন, বান্দরবান শহরে এখন আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোতে প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বান্দরবানের পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব হোটেল-মোটেলগুলো বন্ধ ছিল। কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হয় অনেককে। লোকসানের কারণে অনেক রিসোর্ট বন্ধ হয়ে গেছে। তবে করোনার সংক্রমণ অনেকটাই কমে আসায় পর্যটকদের আগমন বেড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বান্দরবানে এখন স্বর্ণমন্দির ও রামজাদি ছাড়া সব পর্যটন কেন্দ্রগুলো খোলা রয়েছে। পর্যটকদের আগমন আগের মত না হলেও আস্তে আস্তে বাড়ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন খাতে সরকারের প্রণোদনা দিলে ব্যবসায়ীরা ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবে বলে তিনি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে পর্যটকদের বান্দরবানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে যারা আসছেন তাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ” নো মাক্স নো এন্ট্রি ” আপাতত কঠোরভাবে এসব বিষয় মেনে চলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। থানছি উপজেলার পর্যটন গাইড হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, পর্যটকরা এখন ঝরনা নদী পাহাড় প্রকৃতি এসব বেশি দেখতে চাইছে। যে কারণে থানছি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার ঝরনা গুলোতে পর্যটকের আগমন বেড়েছে। তবে এসব পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রেখে প্রশাসন কাজ করছে। দুর্গম এলাকা গুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে পর্যটকদের আগমন আরো বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন। আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ও পর্যটন খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজল কান্তি দাশ জানিয়েছেন, জেলার সবগুলো পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পর পর্যটকের আগমন বাড়ছে। তবে এই খাতের ব্যবসায়ীরা করোনাভাইরাস এর সংক্রমণের সময়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন।
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বান্দরবানের পাহাড়ি ঝরনা গুলোঃ


বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে ফারুক পাড়া ঝরনা। এছাড়া ১৪ কিলোমিটার দূরে সোয়ালক এর মাঝেরপাড়া হয়ে ম্রো ঝরনা। কাছাকাছি হলেও এগুলো এতদিন লোক চক্ষুর বাইরেই ছিল। তবে সম্প্রতিক সময়ে এসব ঝরনায় পর্যটকের আগমন বেড়েছে। শুধু বাইরের পর্যটকই নয় কম দূরত্বের হওয়ায় স্থানীয় পর্যটকরাও এখন ভিড় করছে এসব ঝরনা গুলোতে। এছাড়া রেইছা এলাকার রুপালি ঝরনা, রোয়াংছড়ির শিলবান্ধা ঝর্ণা, দেবতাখুম সহ দুর্গম এলাকার ঝর্ণা গুলোতে পর্যটকদের পদচারণায় অনেকাংশে বেড়েছে। এছাড়া থানছি উপজেলার নাফাখুম ঝরনা ইতিমধ্যে বাংলার নায়াগ্রা নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিনই এসব জায়গায় পর্যটকদের ভিড় করছে। কম খরছে থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের সুবিধা থাকায় পর্যটকরা এখন পর্যটন কেন্দ্রগুলো না ঘুরে এসব ঝরনা গুলোতেই যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। চিম্বুক সড়কের ফারুক পাড়ার কাছে পাহাড়ি ঝরনা টি দেখতে গিয়েছেন চট্টগ্রামের পর্যটক দম্পতি শামসুল আলম নুরুন্নাহার বেগম। তারা জানালেন শহরের কাছে এরকম একটি ঝর্ণা তাদের মুগ্ধ করেছে। যদিও যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল দুর্গম। এসব ঝরনা গুলোতে ছোটখাটো রাস্তা করে দিতে পারলে পর্যটকদের নজর কাড়বে বলে তারা মনে করছেন। অন্যদিকে সুয়ালকের ম্রো ঝরনায় পর্যটকের পদচারণায় বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার স্থানীয় সম্প্রদায় বিরক্ত বোধ করছেন। কদিন আগে এই ঝরনা টিতে লোকজনদের যাতায়াত বন্ধ করে দেয় তারা। তবে এখন এটি আবারো খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং স্থানীয় দেরকে সম্পৃক্ত করে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে সেই সাথে আগমনও অনেকাংশে বাড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর