Logo
শিরোনাম :
পাউরুটি কিনে দিয়ে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা মুক্তি চাইলেন ধর্ষিতা, কারাফটকে বিয়ের নির্দেশ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ৩৬৫ জনের নমুনা টেস্টে ৪৬ জন করোনা পজেটিভ শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যুবলীগ সভাপতি ছৈয়দুল বশরের শুভেচ্ছা সকল অপশ‌ক্তি‌কে ক‌ঠোর হা‌তে দমন কর‌ছেন শেখ হা‌সিনা : রেজাউল ক‌রিম চৌধুরী চাচিকে ধর্ষণ: যুবলীগ নেতার ৪ দিনের রিমান্ড চাঁপাই নবাবগন্জের গোমস্তাপুর অটোর ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু শিক্ষকের মৃত্যুে নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি ২০১৮ ব্যাচের শোক প্রকাশ ঈদগাঁওতে ছাত্রলীগের সভায় বক্তারা…. ঐক্যবদ্ব থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহবান প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সবিহীন কোন গাড়ি চালক সড়কে থাকবে না

স্বপ্নের ‘সিঙ্গাপুর খ্যাত’ সড়কটি যেন গলার কাঁটা!

মহেশখালী প্রতিনিধি। / ৫৫ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়িতে হচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র । ‘স্বপ্নের সিঙ্গাপুর’ খ্যাত এই প্রকল্প ঘিরে চলছে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ। যার দিকে চেয়ে আছে সরকার। মহেশখালী উপজেলার ৩৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে মাতারবাড়ি। যেখানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসতি। একটু দক্ষিণে ধলঘাটা। যেখানকার ৩০ হাজার মতো মানুষের দুঃখের গল্প সবার জানা। এই দুই ইউনিয়নের লাখের বেশি মানুষের পাশাপাশি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে নিয়োজিতদের চলাচল চালিয়াতলি-মাতারবাড়ি সড়ক। অথচ, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিকল্প কোনো সড়ক তৈরি করা হয়নি। ছোট বড় সবধরনের যানবাহন গ্রামীণ সড়ক দিয়েই চলেছে। যে কারণে দীর্ঘ দিনের সড়কের আজ বেহাল দশা। ধারাখাল থেকে মাতারবাড়ি সাইরারডেলের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে শুধু গর্ত আর গর্ত। এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, গাড়ি তো দূরের কথা স্বাভাবিক চলাচলও কষ্ট হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে তো কথাই নেই! সড়ক যেন এখানকার বাসিন্দাদের গলার কাঁটা। কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালবাহী লরি গাড়িগুলো চলাচল করায় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহন। যাত্রী, পথচারীদের আহতের ঘটনা তো আছেই।
গত ১ বছরের এপ্রিল এই সড়কে গাড়ি উল্টে তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। সড়ক সংস্কারসহ ৮ দফা দাবিও দেয় তারা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাতারবাড়ি-ধলঘাটা সড়ক যেন অভিভাবকহীন। দীর্ঘ অনেক বছর কোনো উন্নয়ন নেই। কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে সড়কটির করুণ অবস্থা। তিনি জানান, ভাঙা সড়কের ছবি সংযুক্ত করে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে গালমন্দ করছে স্থানীয় প্রশাসনকে। বদনাম হচ্ছে সরকারের। মাতারবাড়ির সিএনজি স্টেশন থেকে সর্দার পাড়ার রাস্তা দিয়ে ৪-৯ নং ওয়ার্ডের সহস্রাধিক মানুষের যাতায়াত। প্রকল্পে নিয়োজিত গাড়ি, ইট-বালু ভর্তি ট্রাক, পণ্যবাহী যাহবাহনসহ শতাধিক গাড়ি চলছে। তিতামাঝির পাড়া, দক্ষিণ মিয়াজীর পাড়া, বলিরপাড়া রাস্তার করুণ অবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জমে থাকে কাদা মাটি। আব্দুল আলিম নামের এক টমটম চালক জানালেন তার দুঃখের কথা। খানাখন্দে ভরা সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচলে তাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়। অনেকবার দুর্ঘটনায় পড়েছে তার গাড়ি। মাতারবাড়ি সড়কের স্থায়ী সমাধান চাইলেন রিকশাচালক মানিক। তিনি জানান, ভাঙা সড়কে চলতে গিয়ে তার রিকশা অনেকবার বিকল হয়েছে। গর্তে গাড়ি পড়ে আটকে যায়। বর্ষাকালে রিকশা চালাতে না পেরে জীবন-জীবিকা নিয়ে কষ্টে আছে তার পরিবার।
সড়কটি স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) অধীনে হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অবহেলার শিকার। সংস্কার হচ্ছে না বছরের পর বছর।
এদিকে, অবহেলার সড়কটির প্রাথমিকভাবে সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের নির্দেশে ভাঙা সড়কটির সংস্কার হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করতে দেখা গেছে। এতে কিছুটা হলেও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে এলাকাবাসী।
এ প্রসঙ্গে মাতারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ পূর্বকোণকে জানান, স্থানীয় সরকারের বরাদ্দের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার বা উন্নয়ন হচ্ছে না। যে কারণে এখানকার বাসিন্দাদের যাতায়াতে কষ্ট পেতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভাঙাচোরা সড়কটি কিছুটা হলেও সংস্কার করা হচ্ছে।
মাতারবাড়ি সড়কের স্থায়ী সমাধানে অনেক বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাজেট দরকার মনে করেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর