Logo
শিরোনাম :
ইসলামাবাদে মনোমুগ্ধকর ছাদ কৃষি করে নজর কাটল জিকো দাশ ঈদগাঁও বাজারে চলাচল সড়কে বাঁধ দিয়ে ড্রেজার মেশিনের পাইপ : দেখার কেউ নেই সাংসদ কানিজ ফাতেমা মোস্তাকের বরাদ্দে………. ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ৪টি সোলার প্যানেল স্থাপন ঈদগাঁওতে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শফির জানাযায় শোকার্ত মানুষের ঢল সৎ মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুল শিক্ষক গ্রেপ্তার রামু খুনিয়াপালং অর্ধকোটি টাকার ইয়াবাসহ যুবক আটক রংপুরে ছাত্রীকে গণধর্ষণ: এএসআই রাহেনুলকে কারাগারে প্রেরণ শুক্রবার থেকে পাকিস্তানের মাটিতে ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নারীমুক্তির প্রাণপুরুষ হজরত মুহাম্মদ (সা.)

ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ে একটি পর্যালোচনা

ডেইলী উখিয়া নিউজ ডেস্কঃ / ৭১ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অ্যাডভোকেট মোহম্মদ ইলিয়াস শাহ

১৯৬৮ ইংরেজিতে ঘুমধুমের মেম্বার জনাব আবদুল কাদের সিকদারের প্রচেষ্টায় এবং স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় আমাদের ঐতিহ্যবাহী ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ইলিয়াছ মিয়া বি.এ বি.এড এই বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭০ ইংরেজিতে এ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত খোলা হয়। ১৯৭১ ইংরেজিতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে প্রধান শিক্ষক জনাব ইলিয়াছ মিয়া এদেশীয় দোসর কর্তৃক ধৃত হয়ে পাঞ্জাবিদের গুলিতে শহিদ হলে, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।পরে জোড়াতালি দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৭ ইংরেজি পর্যন্ত কোন প্রকারে টিকে থাকে।

১৯৭৮ ইংরেজিতে তুমব্রু এলাকার প্রাণ পুরুষ জনাব খাইরুল বশর সাহেব বি.এ ডিগ্রী অর্জনের পর মৃতপ্রায় বিদ্যালয়টিতে প্রাণের সঞ্চার করেন। বিধ্বস্ত বিদ্যালয়টিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তিনি ১৯৮৫ তে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার জন্য বিদ্যালয় হতে পদত্যাগ করলে মৌলভী সুলতান দায়িত্ব নেন। ১৯৮৬ ইংরেজিতে আামি মোহাম্মদ ইলিয়াস শাহ প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করি।বিদ্যালয়ের জমিতে গভীর নলকূপ বসাই, অনেক পুনর্গঠনমূলক কাজ করি।আমি সাত বৎসর এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলাম। নূরুল হক হেডম্যান বিদ্যালয়ের নামীয় জমির বন্দোবস্তি বাতিল করে তার নামে বিদ্যালয়ের জমি বন্দোবস্তির জন্য বান্দরবান কোর্টে একটি মামলা করে। ১৯৭৮ ইংরেজিতে জিয়ার সময়কালে জাহেদ আলম রোহিঙ্গা শরনার্থী হিসাবে বাংলাদেশে পরিবারসহ অনুপ্রবেশ করে।রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয়গ্রহণ করে।মাঝে মধ্যে ঘাটিরবিলের নূর আহমদ সিকদারের বাড়িতেও থাকতে শুরু করে অধিক আরামের প্রত্যাশায়। পরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলেও জাহেদ আলম তার পরিবারসহ আর ফিরে যায় নি। ১৯৮০ ইংরেজিতে জাহেদ আলম কদের মেম্বারের সাথে যৌথভাবে ঘুমধুম কুলালপড়ায় চিংড়ি মাছের ব্যবসা শুরু করে। বালুখালীতে বসবাসের চিন্তা করলেও জাহেদ বালুখালী হতে বিতাড়িত হয়। সুযোগ বুঝে ঘুমধুমে বসবাস শুরু করে,বর্মাইয়া হেদায়েত উল্লাহর বাড়িতে থাকা শুরু করে।পরে নাইক্ষ্যংছড়ির বার্মা ব্লকের সাথে নিবিড় যোগাযোগ করে, মৌজা হেডম্যানের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে স্থায়ী বাসিন্দার নাগরিকত্বের জন্য।এদিকে নূরুল হক হেডম্যান ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে জমির জন্য একটি মামলা করেন যাহার নং-মিস মামলা নং ১৯৭(ডি)৮৫–৮৬ইং। জাহিদ নূরুল হক এককাট্টা হয়ে বার্মা চ্যানেলের ইন্ধনে ঘুমধুম উচ্ চবিদ্যালয়ের জমির বিরুদ্ধে চরম প্রতিবন্ধকতা শুরু করে দেয়। কিন্তু শত বাধা উপেক্ষা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিতে যায়। ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯.০০ একর ১ম শ্রেনীর জমি হতে১৯৮৭–২০২০ ইং পর্যন্ত মোট ৫৮০৮০০০(আটান্ন লক্ষ আট হাজার) টাকা আয় হয়েছে। ৬.০০ একর ৩য় শ্রেণীর জমিতে গাছ বিক্রি বাবদ ৮ প্রায় ৮ লক্ষ টাকা পওয়া গেলেও বিদ্যালয় ফান্ডে জমা হয় মাত্র ২২ হাজার টাকা। অবশিষ্ট প্রায় সাত লক্ষ আটাত্তর হাজার টাকা হর্তাকর্তারা যারা কমিটির চেয়ারম্যানের আসন অলংকৃত করে আছেন,তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে নিয়েছে। বিদ্যালয়কে আর্থিক ভাবে ঠকানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমার লিখিত “কালের বয়ান” বইয়ের ১৫৭ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত লিখেছি। আপনারা আমার বইটি পড়তে পারেন।
জনাব খাইরুল বশর মাষ্টার ১৯৯৩-২০২০ ইংরেজি যাবৎ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তার দীর্ঘ ২৭ বৎসরের ম্যারাথন সুখের কালে একজন ছাত্রও জুনিয়র বৃত্তি পায়নাই। এস.এস. সি তে ১ জন ছাড়া আর কেউ এ+ উত্তীর্ণ হয় নাই। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বিশ্বরোডের কর্তারা দখল করে রেখেছিল, মাঠের ভাড়া নিয়ে গেল অন্য পক্ষ। স্বনামধন্য কমিটি নাকি বেশি দেশপ্রেমিক!দীর্ঘ ২৭ বৎসর বিদ্যাপিঠটা তারা ঝাঁঝরা করে দিল! ছাত্রছাত্রীদের জীবন নিয়ে শুধু ছিনিমিনি খেলা খেললো, সবকিছু ভূলুণ্ঠিত হয়ে গেল, ইয়াবা পাচারকারীরা বিদ্যালয়ের কমিটিতে স্থান পায়, পরদেশী রোহিঙ্গা ও জমির বিরোধী নাকি কোন দান ছাড়াও আজীবন দাতা সদস্য। সামনে তার সুযোগ্য পুত্র ইয়াবা পাচারকারী চিরদিনের জন্য দাতা সদস্য হিসাবে কমিটির চেয়ারম্যান হবে।বিদ্যালয়ের বিপর্যয় তাদের জন্য কিছুই না, পদবীই আসল কথা। এলাকার শিক্ষিত ব্যক্তিদের কোন জাতীয় দিবসে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ। সাবেক প্রধান শিক্ষক সাজেদ উল্লাহ মাষ্টারকে স্বাধীনতা দিবসে আমন্ত্রণ পত্র দেওয়ার কারণে পধান শিক্ষককে কৈফিয়ত দিতে হয়েছিল! অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ ইলিয়াস শাহ,অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহানের বিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল, এখনও আছে। জাহেদের কোন ছেলে বা মেয়ে এই বিদ্যালয়ে ঘৃণা ভরে পড়ে নাই। এখন কিন্তু তারা স্কুল দরদী।

এখন তো আমাদের অনেক ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে অনেক কিছু উপলব্ধি করতে পারছে।
স্কুলের অনেক সম্পত্তি আছে। স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান! তার এত করুণ দশা হবে কেন? বার্মাইয়ারা আমাদের সমূলে ধ্বংস করতে চায়, এটা সকলের বুঝতে হবে। হীরা,শাহজালাল, জসিমসহ নাম না জানা সকল দেশপ্রেমিক শিক্ষিত যুবক থাকলে আমাদের ভাবনা কিসের? আপনারা ভেদাভেদ ভুলে এখন এগিয়ে আসুন, স্কুলটাকে রক্ষা করুন। শয়তানদের বিতাড়িত করুন। ঘুমধুম ইউনিয়নবাসী সকলকে আমার সালামও শুভেচ্ছা রইলো।

লেখক: অ্যাডভোকেট মোহম্মদ ইলিয়াস শাহ
সাবেক প্রধান শিক্ষক, ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়
এবং আইনজীবী বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর