Logo
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাগঞ্জের শিবগন্জে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ইসলামপুরে ফুটবল টূর্নামেন্টের ফাইনালে……. জালালাবাদ ও খুটাখালীকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা ফ্রান্সে বিশ্বনবীর ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশ, বিক্ষোভ ঈদগাঁওতে গোদাগাড়ীতে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ছাত্র/ছাত্রীদের বাইসাইকেল শিক্ষাবৃত্তি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সামগ্রী প্রদান গোদাগাড়ীতে পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমবার মতো মহিলা প্রার্থী শাহনাজ আখতার ঈদগাঁওতে ডা: মোস্তাফা সরওয়ার সাদেকের পিতার মৃত্যু : বিভিন্ন মহলের শোক পেকুয়ায় চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীকে পিটিয়ে জখম, স্থাপনা নির্মানে বাধা অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকে শিল্পে পরিণত করা উচিত বান্দরবানে ৬ কোটি টাকার ১১ টি প্রকল্প উদ্বোধন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী গোদাগাড়ীর পিরিজপুরে জাগ্রত কালি মন্দির প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো

রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন পিবিআই কার্যালয়ে দুইদিন আটকে নির্যাতন ও হত্যা মামলায় জেলে প্রেরণের অভিযোগ

মোঃ আবু তাহের, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ / ৭৯ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন পিবিআই কার্যালয়ে দুইদিন আটকে নির্যাতন ও হত্যা মামলায় জেলে প্রেরণের অভিযোগ রাজশাহীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করে বলেছেন, তার মেয়ে এবং ছেলেকে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) রাজশাহী কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নিয়ে দুইদিন আটকে রেখে তাদের ওপর চরম নির্যাতন করা হয়েছে।একইসঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর জামাই শরিফুল ইসলাম মুন্না হত্যা মামলায় আসামি করে দুইদিন পর তার মেয়ে ও ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। তিনি বলেন, আমার জামাই অর্থাৎ মেয়ের স্বামী হত্যার সাথে আমার মেয়েকেই আসামি করা হয়েছে। যা খুবই আশ্চর্যের বিষয়। আবার আমার ছেলেও আসামি করা হয়েছে।বুধবার দুপুরে রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটি (আরআরইউ) অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ করে এসব অভিযোগ করেছেন মোসা: সানোয়ারা বেগম। তার বাড়ি নগরীর হাদির মোড় এলাকায়।
সানোয়ারা বেগম বলেন, আমার মেয়ে মোসা: সালমা বেওয়া (৩২) ও আমার ছেলে মো: শান্ত (২৫) তারা দু’জনেই বর্তমানে রাজশাহী জেলহাজতে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই আমার মেয়ে ও ছেলেকে জামাই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। অথচ তারা ঘটনার কিছুই জানেন না। সানোয়ারা বেগম বলেন, জামাই মুন্না হত্যাকা-ের সাথে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে এই মামলায় অন্যায়ভাবে আমার মেয়ে ও ছেলেকে জড়ানোর সাথে যারা জড়িত তাদেরও শাস্তি দাবি করেন তিনি। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সানোয়ারা বেগম বলেন, গত ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে আমার জামাই শরিফুল ইসলাম মুন্না প্রতিদিনের ন্যায় অটোরিক্সা নিয়ে ভাড়া মারার জন্য বের হন। ওইদিন দিবাগত রাত ১১টার দিকে আমার জামাই আমার মেয়ে সালমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলেন, আমাকে ইনজেকশন পুশ করেছে এবং আমি হাটতে পারছে না। তাড়াতাড়ি সিটিহাট এলাকায় চলে এসো। এ খবর পেয়ে আমার মেয়ে আশেপাশের লোকজনদের বিষয়টি জানান। এরপরে দ্রুত মেয়ে সালমা অটোরিক্সায় করে নগরীর শাহমখদুম থানাধীন সিটি হাট এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাওয়ার পথে আমার জামাইয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আবার আমার মেয়ের মোবাইলে কল আসে। অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি ফোনে বলেন, মুন্না মারা যাওয়ার অবস্থা, তাড়াতাড়ি চলে আসেন বলেই কল কেটে দেন ওই ব্যক্তি।
এরপর আমার মেয়ে রাত প্রায় ১টা ৫ মিনিটের দিকে সিটি বাইপাস রাস্তা হয়ে ডাবতলা যাওয়ার পথে আমার জামাইয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দেন। এসময় আমার মেয়ে শাহমখদুম থানাধীন বড়বনগ্রাম এলাকার বিল নওদাপাড়া গ্রামে জনৈক শহরত হাজীর মেহগনী বাগানের ভেতর আমার জামাইয়ের মোবাইল ফোনের রিংটন শুনতে পান এবং মোবাইলের আলো জ্বলতে দেখেন। তখন আমার মেয়ে এবং তার সাথে থাকা লোকজন স্থানীয় খিরশিন এলাকার লোজনদের ঘটনাটি জানান। এরপর মেয়ে সালমা অন্যান্য লোকজন সঙ্গে নিয়ে মেহগনি বাগানে গিয়ে দেখেন আমার জামাই অর্থাৎ মেয়ে সালমার স্বামী মুন্নার লাশ মাটিতে পড়ে আছে। আর তার থুতনীর নীচে ও পিঠে একাধিক গুরুতর জখম। এ অবস্থায় পুলিশে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে শাহমখদুম থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে পাঠায়। পরদিন ১১ নভেম্বর জামাই মুন্নার ভাই মামুন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শাহমখদুম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত পিবিআই’র (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ওপর দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে প্রায়ই আমার মেয়ে ও ছেলেকে পিবিআই কার্যালয় থেকে ডেকে পাঠানো হয় এবং মামলাটির তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাদের আবারও পিবিআই অফিস থেকে ডেকে পাঠানো হয়। পরে আমার মেয়ে সালমা ও ছেলে শান্ত দু’জনই বিকেল ৩টার দিকে পিবিআই কার্যালয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর দুইদিন আটকিয়ে রেখে তাদের ওপর চরম নির্যাতন ও মারপিট করা হয়। পরে তাদেরকে মুন্না হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আব্দুল মান্নান নামে পিবিআই’র একজন অফিসার মেয়ে সালমা ও ছেলে শান্তকে দুইদিন আটকে রেখে চরম নির্যাতন ও মারপিট করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সানোয়ারা বেগম বলেন, জামাই মুন্না হত্যাকা-ের সাথে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে এই মামলায় অন্যায়ভাবে আমার মেয়ে ও ছেলেকে জড়ানোর সাথে যারা জড়িত তাদেরও শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে রাজশাহী পিবিআই’র ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে রাজশাহী পিবিআই’র ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। বরং তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী হ্যাপি নামের এক ব্যক্তিকে এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে ইতোমধ্যে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর