Logo
শিরোনাম :
শান্তিপূর্ণ ভাবে রাজাপালং ৯নং ওয়ার্ডের নির্বাচন সম্পন্ন পিতার আসনে ছেলে হেলাল উদ্দিন বিজয়ী  চকরিয়ায় কীটনাশক পানে পলিটেকনিক ছাত্রের আত্মহত্যা ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ….. ঈদগাঁও বাজারে মলকান্ড : জনদূূর্ভোগ চরমে কক্সবাজারে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই বন্ধু রামুতে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ও বাঁক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার টেকনাফে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ১ টেকনাফে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস দুর্নীতির মামলায় অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত ঢাকা- নওগাঁ উপ-নির্বাচনের ফলাফল প্রত‌্যাখান করে বান্দরবান জেলা বিএনপির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ পেকুয়ায় বড় ভাই ছোট ভাইকে কামড়িয়ে আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন

উখিয়ায় ফোর মার্ডার: এক বছরে তিন তদন্ত কর্মকর্তা বদল, উদ্ধার হয়নি ক্লু সনাক্ত হয়নি খুনি

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ / ৬৩ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং বৌদ্ধ সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকা বড়ুয়াপাড়ায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর ওই ঘটনায় খুন হন একই পরিবার দুই শিশুসহ চারজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই হত্যায় জড়িত কেউ সনাক্তই হয়নি। এমন অবস্থায় জননিরাপত্তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আঙুল উঠছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দিকেওমা। গত এক বছরে তিন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।
সেদিনের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছিলেন, প্রবাসী সৌরভ বড়ুয়া ওরফে রোকেন বড়ুয়ার মা সখী বালা বড়ুয়া (৬৫), রোকেন বড়ুয়ার স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৫), রোকেন বড়ুয়া ও মিলা বড়ুয়ার শিশু পুত্র রবিন বড়ুয়া (৫) এবং রোকেন বড়ুয়ার ভাতিজি ও শিপু বড়ুয়ার সন্তান সনি বড়ুয়া (৬)। চারজনকেই জবাই করে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিন মিলা বড়ুয়ার বাবা শশাঙ্ক বড়ুয়া বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথম ধাপে তদন্তকারী কমর্মকর্তা হিসেবে মামলাটি তদন্ত করেছেন উখিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। দ্বিতীয় ধাপে উখিয়া থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার দায়িত্বপালন করার পর ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর মামলাটি কক্সবাজার জেলা পুলিশ থেকে পিবিআইয়ে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই থেকে প্রথমে ইন্সপেক্টর পুলক বড়ুয়াকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত জুন মাসে আবারও তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন পূর্বক ইন্সপেক্টর কৈশনু মার্মাকে চতুর্থ ধাপে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত মামলাটির চার জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও, দীর্ঘ এক বছরেও আসামি সনাক্ত হয়নি।
মামলায় রোকেন বড়ুয়ার ভাই শিপু বড়ুয়ার স্ত্রী রিপু বড়ুয়া, রোকেন বড়ুয়ার ভায়রা ভাই অসীম বড়ুয়া এবং তাদের নিকটাত্মীয় উজ্জ্বল বড়ুয়াকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হলেও তিনজনই ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত আছেন।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, চার্জশিট না হওয়ায় মামলাটি বিচারের আওতায় আসছে না। চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বার বার আদালতে সময়ের আবেদন করে কালক্ষেপন করছে।
উখিয়া বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট দীপংকর বড়ুয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ এক বছরেও এ হত্যার প্রকৃত আসামিকে খুঁজে বের করতে না পারার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের আর বেশি তৎপর হওয়া উচিত।
উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন, প্রথম দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ বেশ তৎপর ছিলো। তারা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়ার পরও তদন্তে গতি ছিলো। এখন তদন্ত কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা পিবিআই এর ইন্সপেক্টর কৈশনু মার্মা বলেন, হত্যার কোনো ক্লু এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ক্রিমিনালদের ডিএনএ ফ্রিজআপ করা আছে। ডিএনএগুলো পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে টেস্ট করা হচ্ছে। মামলার অনেক খানি অগ্রগতি হয়েছে। অচিরেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর