Logo
শিরোনাম :
চাঁপাই নবাবগন্জের ভোলাহাটে বর বদল তুমব্রু দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটি কর্তৃক সংবর্ধিত নব-নির্বাচিত ইউপি সদস‌্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১০ মাদক সেবী আটক টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার উঠে গেছে সংকেত, কক্সবাজার ফিরতে পারেন সেন্টমার্টিনে আটকা পর্যটকরা চকরিয়া থানায় হঠাৎ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ফাতির পায়ে এল ক্লাসিকোতে বার্সার ‘৪০০’ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের বর্ণাঢ্য জীবন ছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, পালিয়েও রক্ষা হলো না মাদ্রাসা সুপারের ফেসবুকে মাদ্রাসাছাত্রীর ‘বিকৃত ছবি’ প্রকাশঃআটক-২

বিভক্ত সাংবাদিকরা

ডেইলী উখিয়া নিউজ ডেস্কঃ / ৮৬ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শামীমুল হকঃ
——————
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন সংবাদপত্রগুলোতে ধর্মঘট ডাকা হয়। একাধারে বেশ ক’দিন বন্ধ থাকে পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা। এটি এরশাদ সরকারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কিছুদিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এরশাদ। এরশাদের পতনের পর অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাহাবুদ্দীন সংবাদপত্র প্রকাশে বাধা সংক্রান্ত কালাকানুন তুলে নেন। এরপরই সংবাদপত্রের দ্বার উন্মোচন হয়। একের পর এক সংবাদপত্র জাঁকজমকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৯২ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। তখন থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশ বলে পরিচিতি পায় উভয় অংশই। যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিকতায় আওয়ামী লীগপন্থি ও বিএনপি-জামায়াতপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হয় সাংবাদিকরা। কিন্তু জাতীয় প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটি রয়েছে ঐক্যবদ্ধ। একই সাংবাদিকরা সাংবাদিক ইউনিয়নে দুটি ব্যানার নিয়ে দাঁড়ালেও প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক টেবিলে বসে চা খাচ্ছেন। গল্প করছেন। আড্ডা দিচ্ছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের বিভক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে জেলা ও উপজেলাগুলোতে। সেখানে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি-জামায়াতপন্থি নয় নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। নেতা হওয়ার জন্য গ্রুপ তৈরি হয়। প্রেস ক্লাব, উপজেলা প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, রিপোর্টার্স ইউনিটি, উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি বিভিন্ন নামে হাজির হন তারা। প্রায় প্রতি জেলা, উপজেলায় মফস্বল সাংবাদিকদের দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া যায়। প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল এক সময় প্রকাশ্যে রূপ নেয়। হয় পক্ষ-বিপক্ষ। একে অন্যের বিরুদ্ধে বক্তৃতা-বিবৃতিও দেন। ঠিক যেন রাজনীতির ময়দানের মতো। দেখা যায়, গ্রুপগুলো জাতীয় পত্রিকা তাদের হাতে নিতে ছুটে আসেন ঢাকার অফিসগুলোতে। এক্ষেত্রে তারা বেছে নেন প্রতিপক্ষ সাংবাদিকদের পত্রিকাকে। মফস্বল সম্পাদকের দ্বারস্থ হন। বলেন, আপনার প্রতিনিধি চাঁদাবাজ, কলমবাজ ইত্যাদি। এসব এখন নিত্যদিনের ঘটনা। মফস্বল সম্পাদকরাও এসব শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, এ থেকে রেহাই আর মিলবে না। দিন দিন এর অবনতিই হবে। জেলা-উপজেলায় পৃথক প্রেস ক্লাব, পৃথক রিপোর্টার্স ক্লাব চোখে পড়ে, যা গ্রুপিং ও দ্বন্দ্বেরই ফসল। অথচ হওয়া উচিত ছিল সাংবাদিকদের একটি প্ল্যাটফরম, একটি সংগঠন। সাংবাদিকদের এই অনৈক্যের সুযোগ নেন স্থানীয় সুযোগ সন্ধানীরা। যারা বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত। এ ছাড়া প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তাও এর সুযোগ নেন। রাজনীতিবিদরাও এ সুযোগ হাতছাড়া করেন না। ফলে সাংবাদিকরা হয়ে পড়েন কোণঠাসা।

আবার কোনো সাংবাদিক কারো বিরুদ্ধে লিখলে অপর পক্ষের সাংবাদিক গিয়ে তাকে শিখিয়ে দিয়ে আসেন কীভাবে প্রতিবাদপত্র লিখতে হবে। কীভাবে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পত্রিকা অফিসে অভিযোগ পাঠাতে হবে। কীভাবে ওই সাংবাদিককে শায়েস্তা করা যাবে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সবার একই অভিযোগ টাকা চেয়েছিল, না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছে। এটি একটি কমন অভিযোগ। এ ছাড়া সাংবাদিকরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। নানা কটূক্তি করেন। এভাবে আস্তে আস্তে সমাজে সাংবাদিক সমাজ হেয় হচ্ছেন। ভুল বার্তা যাচ্ছে সকল পর্যায়ে। এ জন্য সাংবাদিকরাই দায়ী। এক্ষেত্রে দেখা যায় নিজেদের পাল্লা ভারী করার জন্য সাংবাদিক নয়, এমন অনেককে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কার্ড এনে তার ক্লাবের সদস্য বানান। এমন করতে গিয়ে সাংবাদিকতায় ঢুকে পড়ে অপরাধীরা। যারা কার্ড ব্যবহার করে সত্যিকারের সাংবাদিকদের ললাটে কলঙ্কের দাগ লাগাচ্ছেন। আবার দেখা যায়, কোনো প্রথম সারির পত্রিকার জেলা বা উপজেলা প্রতিনিধিও অপসাংবাদিকতায় যুক্ত হচ্ছেন। এসবই সম্ভব হচ্ছে সাংবাদিকতায় কোনো নীতিমালা নেই বলে। এ মুহূর্তে একটি যুৎসই নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সকল জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিকদের একটি মাত্র সংগঠন থাকবে। এ সংগঠনের অনুমতি নিতে হবে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে। এ জন্যও একটি নীতিমালা থাকবে। দোকান খোলার মতো কথায় কথায় সাংবাদিক সংগঠন খুলে বসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর