Logo
শিরোনাম :
ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ঈদগাঁওর কজন স্বপ্নবাজদের “চিলেকোঠার আড্ডা” চালু হচ্ছে সাফল্যের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন করল জোয়ারিয়ানালা স্বেচ্ছাসেবক টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছিনতাইকালে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য আটক ঈদগাঁওতে এবার সীমিত পরিসরে শারদীয় দূর্গাৎসব উদযাপিত উখিয়ায় জাতীয় স্যানিটেশন ও হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পার্বত্য মন্ত্রীর সাথে রাজাপালং’এর নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের সাক্ষাৎ চকরিয়া সংবাদপত্র এজেন্ট জয়নাল কমিশনার আর নেই, বিভিন্ন মহলের শোক হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানে হাউজিং প্রকল্প বন্ধে ৩ সচিবসহ ৯ কর্মকর্তাকে চিঠি কক্সবাজার সমুদ্রে গোসল করতে নেমে শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার দুই ব্রাজিল আরও শক্তিশালী

আমার দেশ ধর্ষণের শিকার, আমার দেশকে বিবস্ত্র করেছে কারা? আমি কি চোখে দেখিনা?

ডেইলী উখিয়া নিউজ ডেস্কঃ / ৫৬ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

রিয়াদ মোহাম্মদ সাকিব:

গত ৪ঠা অক্টোবর আমি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের শিরোনামহীন উক্ত ভিডিও কয়েক সেকেন্ড দেখেই আমি দীর্ঘক্ষণ মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছিলাম। লেখনির অন্তরালে নিহিত প্রত্যাশা আদৌ পাব কিনা জানি নাহ? আমার দেশ যে আজ ধর্ষণের শিকার। আমি অন্ধ আমি দেখি না!

পবিত্র কুরআন বলে মানুষ ‘আশরাফুল মাকলুকাত’ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টি সেরা জীব হয়ে কিভাবে সম্ভব এমন নরপিশাচ ও পশুত্বের মতো আচরণ করার যেটা আমার আজো বুঝে আসেনা। আইয়ামে জাহিলিয়ার যুগ কেমন ছিল তা পাঠ্য বইয়ে পড়া হয়েছে তা যেন গতকাল অনুরুপ দেখা হয়ে গেল ২০২০ সালে এসে।

সম্প্রীতি দেশজুড়ে দৈনিক ঘটে যাওয়া অহরহ ধর্ষণের এমন সংবাদে নিউজ ফিডট ভরে গেছে, তা চোখ আছে দেখে যাচ্ছে মুখ আছে পড়ে যায় কিন্তু মস্তিষ্ক আমার অচল। কতটুকু নোংরামি, নরপিশাচ, পশুত্ব মনোভাব একজন সুস্থ-সবল মানুষকে গ্রাস করলে একটি মহিলাকে বিবস্ত্র করা সম্ভব? দয়া করে আমার প্রশ্নের উত্তর দিবেন।

আমার সোনার দেশে হঠাৎ ‘ধর্ষণ’ বেড়ে গেলো কেন? যৌনপল্লী/পতিতালয় কি বন্ধ? নাকি ধর্ষকদের সার্টিফিকেট দিতে ভয় হয়? আমার দেশে এখন ধর্ষণ রাস্তায় হয়, রেলওয়ে ষ্টেশনেও হয়, চলন্ত গাড়ীতেও হয়, স্বামী কিংবা মা’কে বেঁধে রেখে কিন্তু আপন ঘরের মতো নিরাপদ স্থানেও হয়। ছিঃছিঃ..আমার দেশে ৪ বছরের শিশুও ধর্ষণের শিকার হয়। আমার দেশটাকে কি পশ্চিমা অপসংস্কৃতি গ্রাস করে নিয়েছে? নাকি দেশে স্বীকৃত যৌনপল্লী বা পতিতালয়ের দাবিতে ধর্ষকদের এমন নিরব ধর্ষণ?

আমার রাষ্ট্র, আমার দেশের মাটি আমার থেকে কি চায়? আমি কি দিচ্ছি? আমি কিভাবে দিচ্ছি? দেশে এমন পরিস্থিতি সর্ব জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে আপনি-আমি অনিরাপদ? আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান ‘ঘর’ সেখানেও এখন আমরা অনিরাপদ।

আমার দেশ ইস্যু নির্ভর দেশ, নতুন ইস্যু তৈরি হবে পুরাতন ইস্যু মুঁছে যাবে এটিই জাতীয় রুটিন। আমার দেশের আইনে তাত্ক্ষণিক কোন রায় দিতে আমি দেখিনি কখনো। কিন্তু, আমি আমার দেশের আইন বিভাগ হতে ধর্ষণের মতো এমন জগন্যতম কাজের বিচার কি তাত্ক্ষণিক আশা করতে পারি না? জনতার প্রকাশ্যে যা সংবিধানে লিখা নেই এমন নজিরবিহীন ডজন খানেক বিচার করলে আমার মনে হয়না কেউ ধর্ষণের মতো কাজ করতে সাহস পাবে, পুড়িয়ে হউক, ফাঁসি হউক, গুলি করে হউক, প্রকাশ্যে কয়েকটি শাস্তি দেন তখন দেখা যাবে এই দেশে কি করে থাকে এমন নরপশুরা।

প্রত্যেকদিন ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে দেশে, অমুকদলের লোক তমুক দলের লোক এসব বলে বেড়াচ্ছে অনেকে। কোন দলের গঠনতন্ত্রে লিখা নাই, বা কোন দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ নেই ধর্ষণ করার জন্যে। মানুষ ধর্ষণ করছে নিজের তৃপ্তি মেঠাতে, যা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই করে যাচ্ছে। উক্ত অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর দল যদি ‘ধর্ষক’ কে বাঁচানোর চেষ্টা করে বা তৎপরতা চালায় তাহলে দলকে দোষারোপ করুন, উক্ত দলকে বয়কট করুন এবং প্রতিহত করুন। অন্যতায় ধর্ষকের উপর ঢোল না বাজিয়ে দলের উপর ঢোল বাজাতে গিয়ে ঘটনার মুড় না ঘুরানোটাই শ্রেয়। পরিশেষে সবার একক প্রতিবাদে বিচার পাওয়া সম্ভব।

৩২ দিন আগের ঘটনা হলেও নোয়াখালী বেগমগঞ্জের ঘটনাটি আজকে ভিডিও করার কারণে ভাইরাল হলো। ভিডিও না থাকায় বা ভাইরাল না হওয়া কত অজস্র ধর্ষণ যে গ্রামে-গঞ্জে হচ্ছে আল্লাহ মালুম।

আমি আমার দেশে নিরাপদে থাকতে চাই!
আশাকরি নোয়াখালীর ঘটনাটি ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছেছে। তিনি জাতীয় বড় বড় ইস্যু গুলো সমাধান করেছেন। আমরা সাধারণ জনতা আশাবাদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালীর উক্ত ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক একটা সুরহা করবেন এবং সারাদেশ থেকে ধর্ষন নিমূলে কাজ শুরু করবেন।

খুবই আশাহত সংবাদ এটিই যে আমাদের দেশে ধর্ষকের মতো নরপশুদের জন্যে কিন্তু মামলা লড়তে আদালতে উকিল পাওয়া যায়। আদালত সংশ্লিষ্টদের পেট আছে, পেটের দ্বায়ে টাকা ইনকামে মামলা লড়তে হয় বলবেন অনেকে! ধর্ষণের মতো এমন একটি মামলা আমাদের দেশে উকিলরা গ্রহণ না করলেও কিন্তু ওনারা না খেয়ে মারা যাবেন না।

আমি আমার দেশেই থাকব, আমি আমার দেশে নিরাপদে বাঁচব। গতকাল বড় ভাইদের সাথে আলোচনায় একটি কথা ওঠে আসলো যে, ‘এসিড নিক্ষেপের’ মতো ঘটনা সচরাচর ঘটনা কিন্তু বছরে-ছমাসে খুবই কম দেখা যায় বা শুনা যায়। কিন্তু কেন? বিগত ৪/৫ বছর আগেও ত অহরহ এমন ঘটনা সারাদেশে পথেঘাটে হতো। আজকাল ওরকম ঘটনা হয়না কেন? নিশ্চয়ই ‘এসিড নিক্ষেপের’ মতো ঘটনা গুলো ধ্বংস হওয়ার নেপথ্যে অনেক সংগ্রাম, বিচার হয়েছে। আমরা চাই ধর্ষণের বেলায়ও যেন তা হয়। আগামী ৪/৫ বছর পরে গিয়ে বাংলাদেশে ‘ধর্ষণ’ নেই তা আমরা শুনার অপেক্ষায়।

সময় ব্যায় করে পড়ার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ, আমি নগণ্য মানুষ, প্রকাশ্যে কোন প্রতিবাদ করার মতো সক্ষমতা আমার নেই। তাই, ভুলভাল এই লেখার দ্বারাই মনের প্রতিবাদী ভাবনাটুকু বাস্তবে প্রকাশ করি।

-আপনার প্রিয় রিয়াদ মোহাম্মদ সাকিব

#Stop_rape
#we_want_justice


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর