Logo
শিরোনাম :
সাফল্যের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন করল জোয়ারিয়ানালা স্বেচ্ছাসেবক টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছিনতাইকালে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য আটক ঈদগাঁওতে এবার সীমিত পরিসরে শারদীয় দূর্গাৎসব উদযাপিত উখিয়ায় জাতীয় স্যানিটেশন ও হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পার্বত্য মন্ত্রীর সাথে রাজাপালং’এর নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের সাক্ষাৎ চকরিয়া সংবাদপত্র এজেন্ট জয়নাল কমিশনার আর নেই, বিভিন্ন মহলের শোক হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানে হাউজিং প্রকল্প বন্ধে ৩ সচিবসহ ৯ কর্মকর্তাকে চিঠি কক্সবাজার সমুদ্রে গোসল করতে নেমে শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার দুই ব্রাজিল আরও শক্তিশালী রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার,

কার্ড চাই, কার্ড

ডেইলী উখিয়া নিউজ ডেস্কঃ / ৫৬ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

শামীমুল হকঃ

এবার আসা যাক জেলা বা উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ প্রসঙ্গে। ঢাকার প্রথম সারির পত্রিকাগুলো কোনো জেলা বা উপজেলা প্রতিনিধি নিতে চাইলে স্ব স্ব পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপরই শুরু হয় স্থানীয়ভাবে গ্রুপিং। একটি জেলা কিংবা উপজেলা থেকে চার থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি হওয়ার আবেদন করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরাও ৪/৫ ভাগ হয়ে একেকজনকে নিয়ে মাঠে নামেন। নানা কৌশলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চেষ্টা করেন। কখনো কখনো উড়ো চিঠি দিয়ে জানান দেন, ওই সাংবাদিক চাঁদাবাজ, দলকানা। বিয়ে করেছে দুইটি। কখনো কখনো অভিযোগ আসে ওই সাংবাদিক মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের। রাজাকার। কতসব অভিযোগ যে আসে এর কোনো ইয়ত্তা নেই। আবার ওই সাংবাদিকরা তাদের বলয়ের সাংবাদিককে নিয়ে ঢাকায় পত্রিকা অফিসে চলে আসেন। মফস্বল সম্পাদক এমনকি সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ দিয়ে যান। নিজেদের প্রার্থীকে নিয়োগ দিলে পত্রিকার বিজ্ঞাপন, সার্কুলেশন সবই দেখার প্রতিশ্রুতি দেন। কার্ড দিলেই হবে। বেতন লাগবে না এমন কথাও বলে যান। কারণ তিনি ঠিকাদারি করেন, কিংবা ব্যবসা করেন। আবার কেউ কলেজে শিক্ষকতা করেন। আর যদি কোনো নতুন পত্রিকা বাজারে আসে তাহলে তো সেখানে শুরু হয় যুদ্ধ। কে পত্রিকার কার্ড নিবে এ নিয়ে শুরু হয় লড়াই। এ লড়াইয়ে একেকজন একেক কৌশল নেন। কেউ রাজনৈতিক দলের বড় কোনো নেতাকে দিয়ে ফোন করান সম্পাদককে। কেউবা অর্থকড়ি নিয়ে মাঠে নামেন। ১৯৯৩ কিংবা ৯৪ সালে নতুন একটি পত্রিকা বাজারে আসে। ওই পত্রিকার অফিস মতিঝিলে। সেখানে জেলা প্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রতিটি জেলা থেকে একাধিক ব্যক্তি লাইন ধরেন। কিন্তু ওই পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক বিনিময় ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগে সুপারিশ করতেন না। এমনই একজন জেলা প্রতিনিধি হওয়ার বাসনা নিয়ে আসেন জেলা থেকে ঢাকায়। তিনি ঢাকার কোন বাজার থেকে একখাঁচি ইলিশ মাছ কেনেন। মাছভর্তি খাঁচি নিয়ে যান ওই পত্রিকা অফিসে। মফস্বল সম্পাদককে বলেন, ভাই- এই ইলিশ মাছ আমার পুকুরের। মফস্বল সম্পাদকও মহাখুশি। তাকে বলে দেন, গিয়ে কাজ করুন। দ্রুত আপনার নিয়োগ হয়ে যাবে। মফস্বল সম্পাদক একবারও ভাবলেন না পুকুরে ইলিশ মাছ হয় কীভাবে? যাইহোক, মাস খানেক পর ইলিশ মাছ দিয়ে যাওয়া ব্যক্তি আসেন অফিসে। শুনেন, আরেকজনকে নিয়োগ দেয়া হয়ে গেছে। ওই পত্রিকা অফিসেরই আরেক সহকর্মী তাকে ডেকে নিয়ে বলেন, আপনি তো ইলিশ মাছ দিয়েছেন। যাকে কার্ড দেয়া হয়েছে তিনি স্বর্ণের চেইন দিয়ে গেছেন। মাছের চেয়ে স্বর্ণের দাম নিশ্চয়ই বেশি। ওই বেচারা মন খারাপ করে ঢাকা ছেড়ে চলে যান। এভাবে বছর খানেক পর ওই পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কানে এসব বিষয় যায়। এরপর পত্রিকায় ছবি দিয়ে ঘোষণা দেয়া হয়, ওই মফস্বল সম্পাদকের সঙ্গে পত্রিকার কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ তার সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ করলে সে যেন নিজ দায়িত্বে করে। শুধু ওই মফস্বল সম্পাদকই নন, এমন অনেক আছেন যারা বিনিময় ছাড়া কিছু করেন না। এটাতো গেল একদিক। প্রথম সারির পত্রিকাগুলোর মধ্যে এমনও পত্রিকা আছে, যারা সত্যিকার অর্থে একজন সৎ, শিক্ষিত, মেধাবী, কর্মঠ প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে চেষ্টা করেন। এজন্য তিন থেকে ছয়মাস আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকে রিপোর্টের। কে কার চেয়ে ভালো রিপোর্ট পাঠাবেন সে প্রতিযোগিতা থাকে। দীর্ঘ সময় যাচাই বাছাইয়ের পর পত্রিকা কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি নিয়োগ দেন। সে প্রতিনিধি হন সবদিক দিয়ে সেরা। এমন অনেক জেলা কিংবা উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিকতার মান ধরে রেখেছেন। পত্রিকার সুনাম ধরে রেখেছেন। যারা সমাজে শ্রদ্ধার পাত্র। আবার নব্বই দশকের শুরু থেকেই কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা টাকার বিনিময়ে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া শুরু করে। তাদের হাতে কার্ড তুলে দেয়। তারা এলাকায় গিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকে নানাভাবে কলঙ্কিত করছে। যা এখনও অব্যাহত আছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা সবই জানেন। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারেন না। কারণ এসব নামধারী সাংবাদিক থানার সোর্স হয়। জেলা ও উপজেলায় দাবড়ে বেড়ায় চাঁদাবাজি করে। তাদের পত্রিকা কখনও আলোর মুখ দেখে না। কিন্তু তারা দিনের আলোতে ‘আকাম’ করে যাচ্ছে। প্রশাসন কিছু বলে না। সত্যিকারের সাংবাদিকরাও থাকেন নীরব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর