Logo

ধর্ষণের কারণ পোষাক নাকি কুদৃষ্টি?

ডেইলী উখিয়া নিউজ ডেস্কঃ / ৯৭ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

ধর্ষণ এক ধরনের যৌন আক্রমণ। কোনো ব্যত্তির অনুমতি ছাড়া তার সঙ্গে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হওয়াকে ধর্ষণ বলা হয়। ধর্ষণ বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে, শিশু ধর্ষণ, বৈবাহিক ধর্ষণ, কারাগারে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যুদ্ধকালীন ধর্ষণ ইত্যাদি। ধর্ষণের অভিযোগ, বিচার ও শাস্তিপ্রদান বিভিন্ন শাসনব্যবস্থায় বিভিন্ন রকম হয়ে তাকে। পুলিশের এক প্রতিবেদনে ২০০৮ সালে ধর্ষণের হার ছিল আজারবাইজানে প্রতি লক্ষে ০.২ এবং বতসোয়ানায় প্রতি লক্ষে ৯২.৯। এছাড়া বিশ্বের উন্নত দেশগুলো কয়কটি দেশ ধর্ষণের শীর্ষ থাকা দশে মধ্যে বর্তমানেও রয়েছে। প্রধানত পুরুষদের দ্বারাই ধর্ষণ সংঘটিত হয়। অপরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনার চেয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশি, এবং কারাগারে পুরুষ কর্তৃক পুরুষ ও নারী কর্তৃক নারী ধর্ষণের ঘটনাও সাধারণ, কিন্তু এ ঘটনা আমাদের নজরে আসে না। বিশ্বের উন্নত দেশেগুলোতে ধর্ষণের মত অপরাধ রয়েছে, আমাদের বাংলাদেশও এর ব্যতিকম নই।
✳️পরিসংখ্যানঃ-
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়। ২০০৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৩০৭ জন। ২০০৯ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৩৯৩ জন। ২০১০ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৫৯৩ জন। ২০১১ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৬৩৫ জন।২০১২ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৫০৮ জন। ২০১৩ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৫১৬ জন।২০১৪ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৫৪৪ জন।২০১৫ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৮০৮ জন।২০১৬ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ১০৫০ জন।২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৮১৮ জন।২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৭৩২ জন।২০১৯সালে ধর্ষণের শিকার হয় ১৪১৩ জন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মোট ১২ বছরে ৮৩১৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ( আসক) তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয় ৮৮৯ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ জন ধর্ষণের শিকার হয় বাংলাদেশে।
ধর্ষণ নতুন কিছু না যুগ যুগ থেকে হয়ে আচ্ছে। মানুষ নামের কিছু শয়তান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে।
এদের হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ নারী পর্যন্ত। এরা ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে আমাদের নাগালে ঘুরে বেড়াই প্রতিনিয়ত। প্রভাবশালীদের ইন্দ্রে এরা সব সময় ধরার ছৌয়ার বাহিরে থেকে যায়।
✳️ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী না পুরুষের কুদৃষ্টি?
আমরা যদি বিশ্বের আধুনিক সভ্যতার দেশগুলোর দিকে তাকায় তাহলে দেখা যায়, যে দেশ যত বেশি আধুনিক সভ্যতায় উন্নত সে দেশে তত বেশি ধর্ষণ হয়ে। খোলামেলা পোশাকে মেয়েরা যে সব দেশে চলা ফিরা করে নিজেকে স্বাধীন মনে করে তারায় আজ বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আবার যদি আমরা আরব দেশগুলো দিকে থাকায়, দেখা যায় খোলামেলা পোশাকে চলা ফেরা করতে না পারায় ধর্ষণের হার কম। যদি আমাদের দেশের দিকে তাকায় দেখা যায় ২০১০ সালের আগে ধর্ষণের হার ছিলো কম। কিন্তু এখন অনেক বেশি। আমাদের দেশের নারীবাদীরা নারীর স্বাধীনতার কথা বলে আমাদের মা-বোনকে পরাধীন করার কারণে এই আবস্থা। তাদের মুল উদ্দেশ্য আমার মা-বোনকে ভোগের পর্ণ বানিয়ে বাজারে ছেড়ে দেয়া। স্বাধীন পোশাকের কথা বলে উলঙ্গ করা কি এদের উদ্দেশ্য? এরা কথা কথা নারী অধিকারের কথা বলে। আমিও বলি নারীদের নারী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আমার মনে হয় ইসলাম ধর্মে নারীদের যে অধিকার দিয়েছে পৃথিবীর কোনো ধর্ম বা কোনো রাষ্ট্র তা দিতে পারবেনা। ইসলাম ধর্মে শালীন পোশাকের কথা বলা হয়েছে এবং যে সব দেশে শালীন পোশাকে পড়ে আমার মা-বোনেরা চলা ফিরা করে সে সব দেশে ধর্ষণের হার কম।
কুদৃষ্টিঃ পুরুষ মধ্যে সবাই ভালো মানুষ কিন্তু না।সমাজে ভালো মানুষের বেশ ধরে অনেক বহুরূপী পুরুষ রয়েছে। আর পুরুষের মনে নারীকে এমন আকর্ষণ করে যেমন চুম্ব আকর্ষণ করে লোহাকে। নারীরা যখন খোলামেলা পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াই পুরুষ আর নিজের দৃষ্টি ধরে রাখতে পারেনা। শয়তান তাকে বার বার ঐ নারীর দিকে টেনে নিয়ে যায়। তার মনে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে থাকে তাকে দেখতে দেখতে। কিন্তু তার পক্ষে সম্ভব না সেই নারীর কাছে যাওয়া। যখন খোলামেলা পোশাক পরা নারী চলে গেলেও পুরুষের কল্পনা কিন্তু রয়ে যায়। তার অন্তরের যে যৌনক্ষুধা সৃষ্টি হয় তা নিবারন করার জন্য সে সুযোগ খুঁজতে থাকে। সুযোগ পেলে শিশু-নারী বা বৃদ্ধ চাই না তার যৌনক্ষুধা মিটিয়ে নে। সে জন্য আমি পুরুষের কুদৃষ্টি চেয়ে নারীর পোশাক ধর্ষণের বড় কারণ মনে করি।
শুধু কি পোশাক বা কুদৃষ্টি দায়ী?
আমার যদি মেয়েদের পোশাক ও পুরুষের কুদৃষ্টি কে শুধু দায়ী মনে করি ভুল হবে। ধর্ষণ বেশি হওয়ার কারণ আরো অনেক রয়েছে। পরিসংখ্যান মতে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যদি দেখি মনে হয় রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেক বেশি দায়ী। গত কয়েক বছরের ধর্ষণের ঘটনার দিকে তাকালে বুঝা যায়, বেশি ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি আরো বেশি দায়ী। আমাদের দেশে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করছে। আমি মনে করি তথ্যপ্রযুক্তির ভালো দিকের চেয়ে খারাপ দিকে বেশি ব্যবহার হচ্ছে। খুব সহজে সবাই পর্নোগ্রাফি দেখতে পারে। সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীর মোবাইলে যেসব বিজ্ঞাপন আসে তাও পর্নোগ্রাফির মতো। তথ্যপ্রযুক্তির যত উন্নত হচ্ছে ধর্ষণ তত বেশি হচ্ছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতাঃ- ধর্ষণ হওয়ার পেছনে সমাজ সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারেন না। আমরা আমাদের স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের হাতে মোবাইল তুলে দিয়েছি। তারা মোবাইলে কি দেখে বা কার সাথে কথা বলে তার খোঁজ খবর রাখি না। তারা কোথায় যাচ্ছে বা কার সাথে মিশে তারও খবর রাখে না। যার কারণে সেই বিভিন্ন অপরাধ ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় লিপ্ত হচ্ছে। বিবাহ উপযুক্ত ছেলেমেয়েদেরকে সঠিক সময়ে বিবাহ না দেয়ার কারণে তাদের কেউ কেউ ধর্ষণের সাথে লিপ্ত হচ্ছে। আর ছেলে-মেয়েদেরকে নৈতিক শিক্ষা নাদিয়া ধর্ষণের বড় কারণ মনে করি।
আমি মনে করি ধর্ষণ বন্ধ করতে ছেলে-মেয়েদের নৈতিক শিক্ষা,ধর্মীয় মূল্যবোধ, সঠিক সময় বিবাহ দেয়া,পর্নোগ্রাফি বন্ধ করা ইত্যাদি।

এম,এ সাইফুল ইসলাম
সিকদার বিল, উখিয়া, কক্সবাজার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর