Logo
শিরোনাম :
টেকনাফে ধরা পড়ল ভয়ঙ্কর মাদক আইসের বড় চালান মহেশখালীর কালারমার ছড়ায় ঘর দেয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র রামুতে RAB এর সাথে বন্দুকযুদ্ধে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনকালে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান: ড্রেজারসহ ৮টি মেশিন ধ্বংস,২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় মহেশখালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অপহৃত কিশোর’কে ৫ মাস পর উদ্ধার। ইসলামপুরে মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৬  কক্সবাজারে সেই তিন পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্তঃ ২ দিনের রিমান্ডে রামুর গর্জনিয়া মাছ বাজার রাস্তার ওপর পঁচা পানির দুর্গন্ধ বাদাম-চকলেটের প্যাকেটে ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১ জনগণের প্রসংশায় ভাসছেন মহেশখালী থানার (ওসি) আবদুল হাই

ড্রাইভার মালেকের দেশে জন্ম না নিয়ে বরিস জনসন ভুল করে ভুল দেশে জন্ম নিয়েছে

ডেইলী উখিয়া নিউজ ডেস্কঃ / ১২০ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

বেতন কম! যা বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। যদি বেসরকারি চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরি করতে পারতাম! অথবা মন্ত্রী কি’বা প্রধানমন্ত্রী হতাম টাকার কোনো অভাব থাকতো না। আমি স্বর্গীয় সুখে পৃথিবীর বুকে বসবাস করতাম। আমি বাঙালি আমি এমনটাই চিন্তা করি,হয়তো বা এমনটাই চিন্তা করব। কিন্তু বেতন কম বলে কোনো প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চান আপনি-আমি বিশ্বাস করবো? বিশ্বাস করার মত না হলেও সত্য বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বেতন কম বলে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়তে চান। তিনি বলেন আমি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে যা বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। তাই আমি পদত্যাগ করতে চাই। জনসনের দলের এক এমপি’‌কে উদ্ধৃতি করে আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি আর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে চান না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ৪০২ পাউন্ড। অথচ গত বছর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় কলাম লিখে আয় করতেন ২ লাখ ৭৬ হাজার পাউন্ড। আর তিনি মাসে দুটি সেমিনারে বক্তব্য দিয়ে আয় করেছিলেন এক লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড। একজন এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে তার ৬ সন্তানের জন্য বছরে খরচ দিতে হয় ৪২ হাজার ৫০০ পাউন্ড। এই খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। অন্যদিকে বিবাহ বিচ্ছেদের চুক্তি অনুযায়ী সাবেক স্ত্রী মেরিনা হুইলারকে একটা বড় অংকের অর্থ দিতে হয়। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সমস্যায় আছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। আমরা একটু জনসনের জীবনী দেখি,আলেক্সান্ডার বরিস দ্য ফেফেল জনসন (ইংরেজি: Alexander Boris de Pfeffel Johnson, জন্ম: ১৯ জুন ১৯৬৪) একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবীদ যিনি ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও রক্ষণশীল দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি আক্সব্রিজ ও সাউথ রাইস্লিপের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত হেনলির সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত লন্ডনের মেয়র ও ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রক্ষণশীল দলের সদস্য হিসেবে তিনি এক-জাতি রক্ষণশীলতাবাদের ধারক হিসেবে পরিচিত। পূর্বে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদারপন্থী নীতির সপক্ষের পাশাপাশি বর্তমানে বর্ণবাদ ও সমকামীতাবিরোধী বক্তব্যের জন্য সমালোচিত।
আমরা যদি আপনাদের দেশের দিকে থাকায় জনসনের বিপরীত দেখতে পাই। আমাদের দেশের মানুষ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কত না কিছু করে। মানুষ খুন করার মতো কাজ প্রতিনিয়ত ঘটায়। দেশ ধ্বংস করে এরা ক্ষমতা চাই। কত চাকরিজীবী চাকরি ছেড়ে জনপ্রতিনিধি হয় ক্ষমতার লোভে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা থেকে শুরু করে কলেজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষাগুরু পর্যন্ত তাদের মহান পেশা বাদ দিয়ে জনগণের সেবক হয়। তাদের উদারতা দেখে আমরা গর্ববোধ করতাম যদি তারা প্রকৃত পক্ষে জনগণের সেবক হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় জনগণের সেবক সেজে জনগণের সব কিছু ছিনিয়ে নেয়া তাদের মুল উদ্দেশ্য থাকে। না হয় এমনটাই কেন? এক জন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সব মিলিয়ে মাসে বেতন ভাতা পাই ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা আর পাঁচ বছরে পাই তিন লক্ষ টাকা। কিন্তু আমরা দেখি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য এক জন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যও পাঁচ থেকে দশ লক্ষ টাকা খরচ করে থাকে। নিজের না থাকলে ধার দেনা করে, তাতে যদি না হয় সম্পত্তি
বিক্রি করতে দেখা যায় অনেককে। তারা এত টাকা কেন খরচ করে? নিজ শেষটুকু দিয়ে জনগণের সেবার মাধ্যমে মানবতা প্রতিষ্ঠিা করার জন্য? কিন্তু না এরা সেবার নামে ব্যবসা করার জন্য মুলধন হিসাবে খরচ করে। যে থাকতো খড়কুটার বাসায় বিজয়ী হওয়ার বছরের মাথায় বিদেশি ডিজাইনের দালান দেখতে পাই তার। সেই তো সেবক!সেবা করে আমাদের রক্ত শুষে নে। হাজারো দুর্নীতির দায় নিয়ে নিজ পদে বহাল থাকে। অন্য দিকে বিশ্বের সামরিক শক্তিতে আট নাম্বার ও বিশ্বের ছয় অর্থনৈতিক অবস্থান থাকা দেশ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বেতন কম তাই পদত্যাগ করতে চান। আমাদের বাংলাদেশ বিশ্বের সামরিক শক্তিতে ৪৬ নাম্বার ও অর্থনৈতিক অবস্থান ৪১ তম। কিন্তু আমাদের দেশের কোনো জনপ্রতিনিধিদের কখনো বলতে শুনিনি তাদের বেতন কম। তাদের অফিসে কি স্বর্ণের খনি আছে? তারা কি ভাবে কোটি টাকার গাড়ি, কোটি কোটি টাকার বাড়ি, কোটি কোটি টাকা দেশে কি’বা বিদেশে জমায়?আমাদের দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মাননীয় রাষ্ট্রপতি বেতন পায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা। আর আমাদের মন্ত্রী মিনিস্টার এর বেতন ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি না। তাহলে তারা কি ভাবে স্বর্গীয় সুখে বসবাস করে? এই প্রশ্নের উত্তর খোজতে খোজতে পগল হয়ে যাব তার বিন্দু মাত্র হদিস পাবোনা। আমি মনে করি বরিস জনসন হয়তো ভুল দেশে জন্ম নিয়েছে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শর্তও তাকে বেতনের চিন্তা করতে হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী নিজেই গাড়ির তেলের টাকা জমিয়ে কবরস্থান ও জামে মসজিদ নির্মাণ করতেছে। আমরা জানতে চাই মেয়র সাহেব কি হেটে হেটে অফিস করতেন? যদি গাড়িতে চড়ে অফিস করে তাহলে তেলের টাকা কোথায় পেল? নাকি টাকার খনি আছে তার অফিসেও।আর আমাদের সোনার বাংলাদেশ জন্ম নেয়া ড্রাইভার মালেকের যদি কোটি কোটি টাকার ধন সম্পদ থাকে তাহলে রাঘববোয়াল বা রুই- কাতলাদের কত না কিছু আছে। আমাদের মানবতার মা যদি ভেবে দেখতো বরিস জনসনকে মালেক ড্রাইভারের পদে নিয়োগ দেয়া যায় কি। নিয়োগ দেয়া গেলে তার অর্থনৈতিক দুর্দিন চলে যেতো আর কয়ক বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যাংকের জমানোর পর তাঁর স্বপ্নের বাড়ি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি করতে পারত। তার ছয় সন্তান ও সব ন্ত্রীসহ পরিবারের সবাইকে চাকরি দিয়ে টাকা খনি তৈরি করার সুযোগ করে দিতে পারবে।
বরিস জনসনের মতো আমরা যত দিন না হতে পারি আমাদের ও আমাদের দেশের কোনো পরিবর্তন আসবেনা। শুধু আইন করে আমাদের দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। আমাদের দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আমাদের ভালো মানুষ হতে হবে। আইন প্রণয়ন না করে যে আইন আছে তা যথাযত প্রয়োগ করতে হবে। আর ছেলেমেয়েদেরকে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। যত দিন নৈতিক ও ধর্মীয় মনোভাব পোষণ না করবো আমাদের দেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর