Logo

রংপুরে ছাত্রীকে গণধর্ষণ: এএসআই রাহেনুলকে কারাগারে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ৫৫ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানার ময়নাকুঠি কচুটারীর নবম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রাহেনুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পিবিআই পুলিশ তার রিমান্ডের আবেদন কোর্টে জানালে আগামী ৪ নভেম্বর হারাগাছ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই তথ্য জানান তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু বাসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

রংপুর চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সামনে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, এএসআই রাহেনুলকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারাগাছ আমলি আদালতের বিচারক স্নিগ্ধা রানীর কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং সেখানে আমরা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করি। বিজ্ঞ বিচারক আগামী ৪ নভেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন এবং রাহেনুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, এই মামলায় আমরা নিবিড় তদন্ত করছি। কোন কিছুই এতে বাদ যাবে না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার পর চার্জশিট দেওয়া হবে।

এর আগে নজর কড়া পুলিশি পাহারায় বিকাল ৪ টা ৩৫ মিনিটে রাহেনুলকে আদালতে হাজির করে রংপুর পিবিআই পুলিশ। দিনভর সেখানে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাতে পুলিশ বাঁধা দেয়। এসময় সেখানে হট্টগোল বাঁধে। ছবি তুলতে না দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা। পরে নীচে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পুলিশ সুপার। এরপর ৫ টা ১০ মিনিটে রাহেনুলকে আদালত থেকে প্রিজনভ্যানে করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

পিবিআই পুলিশ সুপার আবু বাসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন আরও জানান, বুধবার নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক জাহাঙ্গীর আলমের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে রাজু নামের এক পুলিশ সদস্যের কথা বলেছে। ওই রাজুই হচ্ছে মেট্রো ডিবি পুলিশের এএসআই রাহেনুল ইসলাম। তিনি এই মামলার ২ নং এজহারভুক্ত আসামি। রবিবার রাতে মামলার পরপরই রাহেনুলকে আটক করে পুলিশ লাইনে হেফাজতে রাখে মেট্রোপলিটন পুলিশ। আমরা তাকে বুধবার রাতে পৌনে ১০ টায় সেখান থেকে গ্রেফতার দেখিয়ে আমাদের হেফাজতে নেই।

তিনি আরও বলেন, বুধবার একই আদালতে অপর দুই আসামি আবুল কালাম আজাদ ও বাবুল হোসেন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও কারাগারে থাকে সুমাইয়া পারভীন মেঘলা ও সম্পা এই গণধর্ষণের ঘটনায় সহযোগী আসামি। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নিবিড় তদন্ত করছি। এজন্য প্রযুক্তি ছাড়াও প্রমাণযোগ্য যা যা প্রয়োজন তা আমাদের কাছে অলরেডি এসে গেছে। আরও অধিকতর তদন্ত করছি।

পুলিশ, মামলা ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রবিবার সকালে পূর্ব সম্পর্কের সূত্র ধরে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবির এসএসআই রাহেনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৫) নগরীর হারাগাছা থানাধীন ময়নাকুঠি কচুটারী এলাকার আয়নালের নবম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যাকে ডেকে নিয়ে এসে ক্যাদারের পুল এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়ার রুমে নিজে ধর্ষণ করার পর আরও কয়েক যুবকদের দিয়ে ধর্ষণ করায়। এ ঘটনায় মুমূর্ষু অবস্থায় ওই ছাত্রীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এঘ টনায় সুমাইয়া পারভীন মেঘলা (২২) ও অপর সহযোগী সম্পা বেগমকে ঘটনার দিন গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় ওই দুই গ্রেফতার নারীকে পিবিআইয়ে হস্তান্তর করে পুলিশ।

এছাড়াও সোমবার ঘটনার ২ নম্বর আসামি মেট্রোডিবি পুলিশের এসএসআই (পূর্বে হারাগাছ থানায় কর্মরত) রাহেনুল ইসলাম রাজুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পর আটক করে পুলিশ লাইনে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এছাড়াও সোমবার রাতে পিবিআই অভিযান চালিয়ে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর