Logo
শিরোনাম :
পোকখালী যুবলীগের কাউন্সিলে আমজাদ সভাপতি, ইত্তেহাদ সম্পাদক নিবার্চিত কক্সবাজারে ট্রাভেলেটস অফ বাংলাদেশ’–ভ্রমণকন্যা সংগঠনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন এসএসসি ২০১০ এইচএসসি ২০১২ ব্যাচের মিলনমেলা সম্পন্ন মাতারবাড়ীতে বিল্ডিং কোড আইন অমান্য রাস্তার জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পোকখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলন সম্পন্ন অনলাইনে অর্ডার : ফ্যানের পরিবর্তে এলো ইট! কাভার্ডভ্যানসহ চালক ও হেলপার আটক চকরিয়ায় চলন্তবাসে ডাকাতি: গুলিবিদ্ধসহ আহত-৯, আটক-৩ ধর্ষণ মামলায় সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার মনোয়নপত্র সংগ্রহের পর ভোটার তালিকায় নিজেকে মৃত দেখলেন কাউন্সিলর প্রার্থী টেকনাফে ৫৭ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২

দোকানের কর্মচারি থেকে কোটিপতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ১৮৩ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা কুতুপালং পূর্ব পাড়া গ্রামের মোঃ শফির ছেলে শাহজালাল দোকান কর্মচারী থেকে হঠাৎ কোটিপতি। যে অন্যের দোকানে চাকরী করতো সে এখন একাদিক দোকানের মালিক হয়ে অনেক কর্মচারী তার কর্মস্থলে চাকরী করে মোটা অংকের বেতনে এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৮ বছর আগে তিনি সামান্য বেতনে অন্যের দোকানের কর্মচারী হয়ে কাজ করতো। কিন্তু এসবে চলছিল না তার পরিবার। পরে যুক্ত হন কাপড়ের ফেরিওয়ালায় সেখানেও ভালো পুজি দিতে না পারায় উপার্জন তেমন ভাল ছিল না অভাবে কাটতো তার সংসার।

কুতুপালং রোহিঙ্গাদের হাত ধরে যুক্ত হন মায়ানমারের চোরাচালানের সঙ্গে। মিয়ানমারের বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য কাপড় ও পলিথিন এনে প্রথমে পাচার করতে থাকেন। এরপর শুরু করেন স্বর্ণের চোরাচালান। এভাবেই চেনা হয় চোরাচালানের অলিগলি। শুরু করেন ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবার পাচার। মাত্র পাঁচ বছর এ মাদক বেচাকেনা করে আমূল বদলে গেছে তার জীবন ।

বর্তমানে কুতুপালংয়ে সরকারি জায়গার বিশাল পাহাড় অবৈধভাবে কেটে গড়ে তুলছেন কোটি টাকার বাড়ি। অথচ আগের থাকার জায়গাটা জরাজীর্ণ। এখন কোটি কোটি টাকার জায়গা কিনেছেন কুতুপালং, টিএনটি লম্বাগুনা ও তার শ্বাশুড় বাড়ির এলাকায়। সেখানে বিশাল জায়গায় গড়ে তুলছেন মাছের প্রজেক্ট। এছাড়াও তার নামে-বেনামে রয়েছে অনেক সম্পদ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা মাদক কারবারিদের তালিকায় নাম থাকা এ ব্যক্তিকে এলাকায় চেনে ‘চোরাচালানের শাহজালাল’ নামে।

মাদকের সঙ্গে সখ্য গড়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। অথচ ৬ বছর আগেও তার ভাইদের কেউ অন্যের দোকানে কর্মচারী ছিলেন, কেউ বা কাজ করতেন কৃষিজমিতে। বাবা সংসারের খরচ জোগাড়ে করতেন ছাগলের ব্যবসা। বাংলাদেশে আসা পুরাতন রোহিঙ্গাদের সাথে তার আগে থেকেই ছিল হাত, কিন্তু ফের রোহিঙ্গার ঢল আসায় তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রোহিঙ্গাদের যোগসাজশে মায়ানমানের সীমান্তবর্তী তুমব্রু থেকে মালামাল এনে প্রথমে তার বাড়িতে মজুদ করে পরে সুবিধামত ক্যাম্পে সাপ্লাই করে। এছাড়াও অস্ত্রের বারুদ সরবরাহ করে সে। রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছে তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

এলাকাবাসীরা বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকে পুরাতন রোহিঙ্গাদের যোগসাজশে তাদের হাতে নিয়ে শাহজালাল বৃহত্তর সিন্ডিকেট গড়ে তোলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাড়ি হাড়ি ইয়াবা পাচার, সোনা থেকে শুরু করে যাবতীয় বার্মিজ পণ্য এনে বাসায় মজুদ করে অবৈধ ব্যবসা করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শাহজালালের ইয়াবার চালান নিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন পাচারকারী জেল হাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

শাহাজালালের নেটওয়ার্ক বিশাল হওয়ায় সে বারংবার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে তার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা এক ব্যাক্তি জানান, শাহজালাল পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গাদের শীর্ষদের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলার পাশাপাশি এলাকার উঠতি বয়সী যুবকদেরকে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে বৃহত্তর সিন্ডিকেট তৈরি করে সারা দেশ ব্যাপী লাখ লাখ পিস ইয়াবা পাচার করে গড়ে তোলেছে কালো টাকার পাহাড়।

অভিযুক্ত শাহজালালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নিউজ করে কেউ আমার কিছু করতে পারবেনা। অনেক বড় বড় সাংবাদিক ও অনেক কর্মকর্তাদের সাথে আমার পরিচয়। এছাড়া তাদের পারমিশন ছাড়া কেউ আমার বিরুদ্ধে লিখতে পারবেনা এবং কোনো পত্রিকাতেও আমার বিরুদ্ধে নিউজ ছাপাবেনা।

স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, ইয়াবা শাহাজালালদের মতো জঘন্য মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেপ্তার পূর্বক কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য ও তাদের যারা রক্ষাকর্তা আছে তাদের আইনের আওতায় আনতে এবং সেই সাথে তাদের অবৈধ পথে অর্জনকৃত সম্পদ ও আয়ের অনুসন্ধান করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক না কেন তাদের ছাড় দেয়া হবেনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর