Logo

মগনামায় কৃষকলীগের ঘোষিত কমিটিকে নাকচ করল আ’লীগ

আব্দুর রশিদ পেকুয়া প্রতিনিধি: / ৮২ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

পেকুয়ায় ঘোষিত কৃষকলীগের কমিটিকে নাকচ করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটির আহবায়ক হাজী কামাল হোসেন জাতীয়তাবাদীদল বিএনপির মগনামা ইউনিয়ন কমিটির সিনিয়র নেতা। তাকে আহবায়ক করে ঘোষিত ওই কমিটিকে পকেট কমিটি আখ্যা দেয়া হয়েছে ক্ষমতাসীনদল আ’লীগের তরফ থেকে। ১ নভেম্বর কৃষকলীগ মগনামা ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক কমিটি ঘোষিত হয়। কমিটিতে আহবায়ক করা হয়েছে বিএনপি নেতা হাজী কামাল হোসেনকে। কৃষকলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার আহবায়ক হাজী মেহেরআলী ও যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ, যুগ্ম আহবায়ক আমিরুল খোরশেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস নোট থেকে ওই কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে হাজী কামাল হোসেন আহবায়ক ও নজরুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। এ দিকে ঘোষিত আহবায়ক কমিটি নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগে অস্থিরতা বিরাজ করছে। নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত না করে সম্মেলন ও কাউন্সিল ছাড়া গোপনে মগনামা ইউনিয়ন কৃষকলীগের কমিটি ঘোষিত হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দল আ’লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন গুলোর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অপরদিকে ঘোষিত কমিটির আহবায়ক হাজী কামাল হোসেন বিএনপির ইউনিয়ন কমিটির জৈষ্ট্য নেতা। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মগনামা ইউনিয়ন শাখার বর্তমান কমিটিতে কামাল হোসেন সহ-সাংগঠনিক পদে অধিষ্টিত রয়েছেন। কামাল ছাড়াও তার সমস্ত পরিবার বিএনপির রাজনীতিক অঙ্গনের অনুসারী। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এ পরিবারটি বিএনপির রাজনৈতিক চেতনা ধারণ করছে। বিশেষ করে জোট সরকারের সময় কামাল হোসেনসহ এ পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী বিদ্বেষী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের আস্থা ও দৃষ্টি আকৃষ্ট হতে কামাল হোসেন তৎপর ছিলেন। জোট সরকারের সময় এরা অনেক আ’লীগ নেতা-কর্মীকে মারধর ও মামলা মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি করেছিল। বিএনপির হরতাল, অবরোধে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বাইন্যাঘোনা পয়েন্টে পিকেটিং হয়েছে। আল্লামা দেলোওয়ার হোছাইন সাঈদীর রায়ের সময় সারা দেশে সহিংসতা হয়েছে। সে সময় বাইন্যাঘোনায় গাড়ী পোড়ানো হয়েছিল। এ সবের নেতৃত্বে ছিল নবগঠিত কমিটির আহবায়ক হাজী কামাল হোসেন। রাতারাতি বিএনপি থেকে আ’লীগ বনে যান ওই ব্যক্তি। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ফয়সাল চৌধুরী জানান, হাজী কামাল আমাদের বিএনপির ইউনিয়ন কমিটির সহ-সাংগঠনিক পদে রয়েছেন। আমি শুনে বিস্মিত হয়েছি। আসলে কামাল কেন ওই পরিবারের প্রতিটি সদস্য বিএনপির চেতনা ধারণ করছে। হয়তো সুযোগ সুবিধার জন্য যেতে পারেন। আমরা এখন ক্ষমতায় নেই। কৃষকলীগ মগনামা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি বদিউল আলম জানান, নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করতে হলে কিছু নিয়ম নীতি মেনে নিতে হবে। গণতান্ত্রিক চর্চা ছাড়া কোন একক ব্যক্তির ইশারায় কমিটি ঘোষণা হতে পারেনা। আমরা পকেট কমিটি মেনে নিবনা। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনকে আহবায়ক ঘোষনা করবে আমরা বসে থাকব এটি পাগলের প্রলাপ। কৃষকলীগ মগনামার সাধারন সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন জানান, বিশৃংখলা যারা করবে আমরা এদেরকে মগনামা থেকে বয়কট করব। উপজেলা কমিটির আহবায়ক মেহের আলীও বিএনপি। কামাল হোসেন বিএনপির সিনিয়র নেতা। এটি প্রতারণা। স্বেচ্ছাসেবকলীগ মগনামার সভাপতি সোলতান মোহাম্মদ রিপন চৌধুরী জানান, এখানে কি আ’লীগ নেই। বিএনপি নেতা কামালকে দিয়ে কৃষকলীগ করা মানে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। মেহের আলী অযোগ্য মানুষ। রাজনীতি করার মতো কি যোগ্যতা এদের আছে। এ সবের ক্লু বের করতে হবে। সাধারন সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, নেত্রীর ঘোষনা ও সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে যারা বিশৃংখলা করছে এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এক সময় আ’লীগ নেতা-কর্মীদের গুলি ছোড়েছে। এখন তারা আবার আ’লীগের নেতা হবে এ কেমন প্রতারণা। যুবলীগ মগনামা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি রুকন উদ্দিন জানান, আমরা মাঠে নামব। এ ধরনের বেইমানী আর বরদাশত করা যাবেনা। ছাত্রলীগ মগনামার সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, আসলে এটি শুনতে অবাক লাগে। কেন এত বড় শঠামি। ইউনিয়ন আ’লীগ সহসভাপতি নাজেম উদ্দিন জানান, কামাল হোসেন বিএনপি নেতা তাকে কেন কৃষকলীগ নেতা বানানো হল। এর জবাব থাকতে হবে। ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সাংবাদিক মুহাম্মদ হাসেম জানান, আমরা বিএনপি নেতা হাজী কামালকে দিয়ে ঘোষিত পকেট কমিটি মেনে নিবনা। কর্মসূচী দেব যদি এ কমিটি স্থগিত করা না হয়। কৃষকলীগ সাবেক নেতা আফতাব উদ্দিন বাবুল বলেন, কামাল আমার নিকট আত্মীয়। কিন্তু সেতো আ’লীগ করেনি। বিএনপির ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক। ফয়সাল ও মানিকের কমিটিতে সে বিএনপির নেতা। ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুল এনাম বলেন, এ ভাবে হলে আ’লীগ মাঠে দেউলিয়া হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর হাতের গড়া সংগঠন এ কৃষকলীগ। সেখানে বিএনপিকে দিয়ে কমিটি করবে সেটি আমরা কিভাবে মেনে নিব। বিএনপির পেকুয়া উপজেলার সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোছাইন জানান, আসলে আমরা যারা ধৈর্য্যধারণ করছি তারাই বিএনপিকে লালন করছি। কামাল হোসেন বিএনপি করে। এখন কত বিএনপি আ’লীগ হচ্ছে। কেন বিএনপি থেকে আ’লীগে যাচ্ছে সেটি যারা যাচ্ছেন ওনাদের বিষয়। আমি এর চেয়ে বেশী আর কি বলব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর