Logo
শিরোনাম :
মহেশখালীতে বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ১০ নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির ‘গুলিতে’ রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি নিহতঃঅস্ত্রসহ ইয়াবা উদ্ধার ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে হাই স্কুলের শিক্ষকদের সৌজন্য সাক্ষাত কক্সবাজারে তিন খাবার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি লাশ উদ্ধার ইসলামাবাদে নির্মম খুনের শিকার মা-মেয়ের দাফন সম্পন্ন : মামলা প্রক্রিয়াধীন সখীপুরে কলেজ ছাত্র রবিন হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মুজিববর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৩১৯টি পরিবারের পাচ্ছে মাথা গোঁজার আশ্রয় ইসলামাবাদে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১ বঙ্গবন্ধু সেতুর দু’পাশে ৫০ কিলোমিটার যানজট

২০২১ সালের এপ্রিলে মাতামুহুরী সেতুতে চলাচল করবে গাড়ি- জেলা প্রশাসক

চকরিয়া প্রতিনিধি। / ১১ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার উপকণ্ঠে চিরিঙ্গা পয়েন্টে ছয়লেনের নতুন মাতামুহুরী সেতুর নির্মাণকাজ অবশেষে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ এবং করোনা দুর্যোগসহ নানা জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর বর্তমানে সেতুটির নির্মাণকাজে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে নির্মিতব্য সেতুর দুইদিকের নদীর বুকে পাইলিংয়ের কাজেরও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। নভেম্বর মাস পর্যন্ত নদীতে পিলার স্থাপনের জন্য চলমান পাইলিংয়ের কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার উপকণ্ঠে চিরিঙ্গা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর ওপর নির্মিতব্য ৩২১ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩১ দশমিক দুই মিটার প্রস্ত আয়তনের ছয়লেনের নতুন সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা। সরেজমিন নির্মাণকাজের অগ্রগতি দেখে আগামী ২০২১ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে সেতুটির তিন লেন চলাচল উপযোগী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেন। পহেলা ডিসেম্বর নির্মিতব্য সেতুটির সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ, সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মোল্লা মহিউদ্দিন মিলন ও সেতু নির্মাণে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীবৃন্দ।

সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেন বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়নযঞ্জে মাতামুহুরী নদীর ওপর নির্মিতব্য ছয়লেনের সেতুটি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখে ধারণা করছি, আগামী ২০২১ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই সেতুটি রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রামের সাথে কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে। একইসঙ্গে যাত্রী দুর্ভোগ নিরসনে এবং কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মুলত এটাই হচ্ছে, উন্নয়নের গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র। সরকার এভাবে দেশের উন্নয়ন কাজ করছেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু ছাড়াও পটিয়ার ইন্দ্রপুল সেতু, চন্দনাইশের বরগুনি সেতু, দোহাজারীর সাঙ্গু সেতুর নির্মাণকাজে অর্থায়ন করছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। তন্মধ্যে বেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাতামুহুরী সেতুর ছয়লেনের মূল নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে ২০১৯ সালের দিকে। তবে প্রায় একবছর আগে থেকে সেতু নির্মাণের সুবিধার্থে বেস ক্যাম্প স্থাপনসহ প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। সেতুর মূল নির্মাণকাজের সরাসরি তদারকি করছে জাইকার নিজস্ব টিম।

সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘ক্রস বর্ডার রোড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক’ এর আওতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ছয় লেনের উক্ত চার সেতুর মধ্যে প্রথমবারের মতো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাতামুহুরী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ছয় লেনের মাতামুহুরী সেতু হবে খুবই দৃষ্টিনন্দন। ডিজাইন অনুযায়ী ছয় লেনের সেতুর মধ্যে বিদ্যমান দুই লেনের সেতুর দক্ষিণাংশে প্রথমে তিন লেনের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। এই তিন লেনের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার পর বিদ্যমান পুরাতন সেতু ভেঙে ওই স্থানে নির্মাণকাজ শুরু হবে বাকী তিন লেনের সেতুর নির্মাণকাজ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু কুমার চাকমা বলেন, ছয় লেনের এই সেতুর মধ্যে মাঝখানের চার লেনে চলাচল করবে দূরপাল্লার এবং দ্রুত গতির যানবাহন। আর বাকি দুই লেন দিয়ে চলাচল করবে ধীরগতির তথা স্থানীয় যানবাহন। এছাড়াও এই দুই লেনে (উভয়পাশে) ৫ ফুট করে উম্মুক্ত থাকবে ফুটপাত হিসেবে ব্যবহারের জন্য।

তিনি বলেন, ডিজাইন অনুযায়ী ছয় লেনের এই মাতামুহুরী সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৩২১ মিটার। পূর্বপ্রান্তে মহাসড়কের জিদ্দাবাজার পর্যন্ত (কাকারা রাস্তার মাথা) এবং পশ্চিমপ্রান্তে পুরাতন বাসস্টেশনের বর্তমান ঢাকা ব্যাংক পর্যন্ত এই সেতুর এপ্রোচ বৃদ্ধি পাবে।

জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘ক্রস বর্ডার রোড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক’ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চারটি সেতুর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছয় লেনের মাতামুহুরী সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এই সেতুর নির্মাণকাজ আরো আগে শুরু করা যেত। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ, স্থাপনা উচ্ছেদ এবং করোনাকালীন দুর্যোগসহ নানা জটিলতার কারণে একটু সময় নষ্ট হয়েছে। এরপরও বর্তমানে যেভাবে কাজের অগ্রগতি হচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক। কাজের এই গতি অব্যাহত থাকলে ছয় লেনের এই সেতুর মধ্যে প্রথমে শুরু হওয়া তিন লেনের কাজ যথাসময়ে শেষ করা যাবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, তিন লেনের নির্মাণকাজ চূড়ান্তভাবে শেষ হলে সেতুর যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাকি তিন লেনের নির্মাণকাজ শুরু করতে বর্তমানে বিদ্যমান পুরাতন সেতু ভেঙে ফেলা হবে।

মাতামুহুরী সেতুর নির্মাণকাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম। তিনি বলেন, ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের দাবিটি ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন সেতু নির্মাণে একনেকে অনুমোদন দিয়ে পুরো কক্সবাজার জেলাবাসিকে অনুপ্রাণিত করেছেন। নতুন মাতামুহুরী সেতুটির নির্মাণকাজ শেষে পাল্টে যাবে জেলার ২২ লক্ষাধিক মানুষের জীবনচিত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর