Logo

ঈদগাঁওতে কৃষি জমির উপরিভাগ বিক্রির হিড়িক : হারাচ্ছেন উর্বরা শক্তি

এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও / ২৭ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০

আর্থিকভাবে সাময়িক লাভবান হওয়ার আশায় অনেক কৃষক তাদের জমির উপরিভাগ মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাপকহারে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সূত্র মতে, কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওর বিভিন্ন স্থানের অধিকাংশ জমিই উর্বর মাটি সমৃদ্ধ। এসব জমিতে ধানসহ শীতকালীন সবজি ব্যাপক ভাবে উৎপাদন হয়। কিন্তু কিছু কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব জমির টপ সয়েল কিনে নিচ্ছেন।

এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রির হিড়িক যেন চোখে পড়ার মত। মাঝারী পিক আপে এসব মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতি গাড়ী মাটি সাড়ে ৫শত থেকে ৬শত টাকা নেয় বলে মাটি ক্রেতা তাহের জানান।

জানা যায়, কিছু মাটি ব্যবসায়ী প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২/১ মাস মাটির ব্যবসা করেন। তারা এলাকার কৃষকদের জমির টপ সয়েল মাটি কিনে নিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে। ইটভাটায় কিংবা বাড়ি তৈরিতে মাটি ভরাট প্রয়োজন হলেও অনেকে এসব মাটি ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হন। সে সুযোগেই তারা দ্বিগুন দামে মাটি বিক্রি করে থাকেন।

টপ সয়েল জমির প্রাণ। জমির উপরের আট থেকে ১০ ইঞ্চিই হল টপ সয়েল। আর ওই অংশেই থাকে মূল জৈবশক্তি। কৃষকরা জমির টপ সয়েল বিক্রি করে নিজেরা নিজেদের আঘাত করছেন। মাটি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে তারা জমির উর্বরা শক্তিই বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফসল উৎপাদন আশঙ্কা জনক হারে হ্রাস পেতে পারে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিকু দাশ সুব্রত জানান, কৃষি জমির উপরিভাগ বা টপসয়েল কাটার ফলে জৈবশক্তি হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির প্রাণও চলে যায়। কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উৎপাদনও কমে যায়। সেসব দিক লক্ষ্য রেখে মাটি কাটা বন্ধের জোর দাবী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর