Logo
শিরোনাম :
গোমাতলীতে সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে তাফসীরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন উখিয়ায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে একএকর বনভুমি উদ্ধার জালালাবাদ চেয়ারম্যান রাশেদের উপর হামলা, বিক্ষোভ সমাবেশ কাল ঈদগাঁওর সংবাদকর্মী সাগর অসুস্থ : দোয়া কামনা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে পুড়লো ৪টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ধেচুয়াপালং এর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ চৌধুরী আর নেই ১৭ বছরের ক্লাব ক্যারিয়ারে প্রথম লালকার্ড দেখলেন মেসি জালালাবাদ চেয়ারম্যান রাশেদের উপর হামলা, বিক্ষোভে উত্তাল ঈদগাঁও চাঁপাই নবাবগঞ্জে পেট জোড়া লাগানো যমজ শিশুদুটিকে বাঁচানো গেলো না নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩ অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিলেও নজর পড়েনি মেম্বার আবুল কালাম,পলাশ বড়ুয়ার ইটভাটায়

দ্বিতীয় দফায় ভাসানচরের পথে ১৮০৪জন রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ২৭ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০

স্বেচ্ছায় এবার ভাসানচরের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন ৪২৮ পরিবারের ১৮০৪জন রোহিঙ্গা। সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৯টি বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করেছেন তারা উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে এবার রোহিঙ্গা নিজ উদ্যোগে যাত্রা করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্র নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতি ১০টি বাসের অন্তর অন্তর একটি করে পুলিশের গাড়ি এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত রয়েছে।

গোয়েন্দাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বিশেষে নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ১৩ বাসে ৫৯৫ জন, ২টা ১০ মিনিটে ১১বাসে ৫৩৯ জন, ৫টা ১০ মিনিটে ১৫ বাসে ৬৭০ জনসহ ৪২৮ পরিবারের মোট ১৮০৪জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে গাড়ী গুলো চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিয়েছেন। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের মালামাল নিয়ে ১১টি কার্গো এবং ট্রাক গাড়ী বহরে যুক্ত রয়েছে।

এর আগে রোববার বিকেলে ও সোমবার সকালে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্টে নিয়ে এসে রাখা হয়। তাছাড়া ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা ট্রানজিট পয়েন্টে আসতে শুরু করে। আজ সকালেও এ ধরনের অনেক রোহিঙ্গা পরিবার পায়ে হেটে ট্রানজিট ক্যাম্পে এসেছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

উখিয়ার কুতুপালংয়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ক্যাম্পের মাঝিরা বলেন, গতবারের উল্টো এবারের চিত্র। ওই সময় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে অনেক বোঝাতে হয়েছে। কিন্তু ২০ দিনের মধ্যে চিত্র পাল্টেছে। এবার রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে নিজেরাই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ভাসানচরে ৪ ডিসেম্বর যাদের আত্মীয়স্বজন গেছে, তাদের কাছে সুযোগ-সুবিধার খবর শুনেই অনেকেই যেতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছে।

সুত্রে জানা যায়, উখিয়া ও টেকনাফের তালিকাভুক্ত ক্যাম্প ছাড়া বাকি সব ক্যাম্প থেকেই রোহিঙ্গারা সেচ্ছায় ভাসানচরে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে উখিয়ার কুতুপালং-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৮ ডব্লিউসহ থাইংখালী ১৩ নাম্বার ক্যাম্প থেকে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার সোমবার ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবার ভাসানচর পৌঁছবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ইস্ট)’র এক মাঝি বলেন, আমার ব্লক থেকে কয়েকটি পরিবার ভাসানচরে যাচ্ছে। তাদের কাউকে জোর করা হয়নি। তারা নিজের খুশিতে ভাসানচর যেতে রাজী হয়েছে।

একই ক্যাম্পের সাবেক মাঝি নুর মোহাম্মদ বলেন, এ ক্যাম্প থেকে আবদুস সালাম ও আবুল হাশেম মাঝির পরিবারসহ বেশকিছু পরিবার নোয়াখালীর ভাসানচরে রওয়ানা দিয়েছে। প্রথম দফায় যারা গেছে, তাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধার খবর জেনেই নতুন করে তারা ইচ্ছা পোষণ করেছে।

ক্যাম্প ২৬ এবং ২৭ এর ইন-চার্জ খালিদ হোসেন বলেছেন “ক্যাম্প ২৬ থেকে ২৩ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে”। এভাবে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা সেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছে পোষণ করেছেন।

রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দফা ভাসানচর যাত্রা নিয়ে উখিয়ার ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভাসানচরের পথে চট্টগ্রাম থেকে চূড়ান্ত ভাবে জাহাজে না উঠা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের যাত্রা নিয়ে কোনো কথা না বলা যাবে না। প্রথমবার যেভাবে সময়মতো গণমাধ্যমকে সবকিছু জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, পরবর্তী ধাপেও একইভাবে জানানো হবে।

উল্লেখ্য যে, গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গা ভাসানচরে গেছে। এর আগে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে সমুদ্র উপকূলে আটক আরও তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর