Logo
শিরোনাম :
উখিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি ২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন টেকনাফে খালাসের সময় ইয়াবা ও কাঠের নৌকাসহ ৪জন মাদক কারবারী আটক ঈদ উপলক্ষে উখিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গাদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ উখিয়ায় যাকাতের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ কক্সবাজারে ৪শতাধিক অসহায়দের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ফুড প্যাকেজ প্রদান বালুখালী, কুতুপালং, ঘুমধুম, ট্রাক,মিনি ট্রাক, পিক-আপ শ্রমিক ইউনিয়নের ঈদ উপহার বিতরণ কুতুপালং ক্যাম্পে এপিবিএন পুলিশের হাতে ৫০টি গ্যাস সিলিন্ডার,নাম্বার বিহীন গাড়ী জব্দঃআটক-২ অনলাইন ঈদগাঁও’র ক্বেরাত প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্টান সম্পন্ন বাসায় ডেকে ফ্রিজ ম্যাকারের অশ্লীল ভিডিও ধারণ, নারীসহ ৬ প্রতারক আটক টেকনাফে রিপোর্টার্স ইউনিটি’র কমিটি গঠিত

মহেশখালীতে লবণ শিল্প ধ্বংসের পথে, কৃষকরা পাচ্ছেন না ন্যায্য মূল্য

মফিজুর রহমান, মহেশখালী প্রতিনিধি: / ৭০ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৩ মে, ২০২১

কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলজুড়ে মাঠে লবণ আর লবণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রহায়ন মাসে লবণের মাঠ শুরু করে বৈশাখ মাস পর্যন্ত চলতি মৌসুমে আশানুরূপ লবণ উৎপাদন হয়।লবণের দাম বাড়বে এমন প্রত্যাশা নিয়ে পুরোদমে লবণ উৎপাদনে কঠোর পরিশ্রম করলেও এখনো দাম না বাড়ায় হতাশ প্রান্তিক লবণ চাষিরা। দাম কম হলেও হতাশা নিয়েই লবণ উৎপাদনে পুরোদমে কাজ করছেন তারা। প্রত্যাশা মতো লবণের দাম এখনো বাড়েনি। যেভাবে লবণ উৎপাদন হচ্ছে চলতি মৌসুমে চাহিদারও বেশি লবণ উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন মাঠপর্যায়ের লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ লবণচাষি বাঁচাও পরিষদের সদস্যসচিব এহেছানুল করিম বলেন, চাল-ধানের মতো লবণের প্রতি কেজি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ, প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে লবণ ক্রয়সহ লবণের মূল্যবৃদ্ধির জন্য আমরা একাধিকবার দাবি উত্থাপন করেছি বিভিন্ন ফোরামে। কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক লবণের দাম বাড়ানোর জন্য জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে লবণের ন্যায্যমূল্যের কথা উত্থাপন করেছেন। তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে লবণের দাম অন্তত ৩০০ টাকা হলে চাষিরা কোনো মতে জীবনধারণ করতে পারবে। লবণ শিল্পের সাথে জড়িতদের জীবনের মানউন্নয়নে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে এ শিল্পকে বাঁচাতে হবে।কক্সবাজারে বিসিকের লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয় (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদা মেটানোর লবণ বাংলাদেশেই উৎপাদন হয়। এ কারণে লবণ আমদানি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে যথাযথ মূল্য নির্ধারণ চায় প্রতিষ্ঠানটি।

হোয়ানকের লবণচাষিরা বলেন, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছর লবণের দাম খুবই কম। অগ্রহায়ণ মাস থেকে এপর্যন্ত বাজারে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায় লবণ বিক্রি হয়েছে। এরপরেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা চাষীদের কাছ থেকে প্রতি মণ লবণে ২৫/৩০ কেজি লবণ অতিরিক্ত নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। চাষীরা লবণ বিক্রি করে মাঠে ব্যবহার করা পলিথিন ও দিনমজুরদের খরচ দিয়ে মৌসুম শেষে প্রত্যেক চাষীদের ৩০/৪০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।

তারা আরও বলেন,
মাঠে উৎপাদিত লবণ প্রতি কেজি তিন থেকে চার টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩২ টাকায়। এখন মাঠে উৎপাদন খরচ যাচ্ছে প্রতি কেজি সাড়ে ৪ টাকারও বেশি। প্রতি বছর এভাবে লোকসান দিতে দিতে লবণ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার বিসিকের উপ মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মহেশখালীর উপকূলে প্রতি মৌসুমে সাড়ে ১৪ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। পরপর তিন বছর লবণের মূল্য না পাওয়ার কারণে চাষিরা লবণ চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে। যার কারণে চলতি মৌসুমে গত মৌসুমের চেয়ে কম জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। গত মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয়েছে। তারপরও নানা কৌশলে ব্যবসায়ীরা অপ্রয়োজনীয় সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করে থাকে। বর্তমানে যে পরিমাণ লবণ উদ্ধৃত রয়েছে এবং উৎপাদিত হচ্ছে এতে লবণ ঘাটতির কোনো সম্ভাবনা নেই। লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে প্রান্তিক লবণচাষি ও ব্যবসায়ীরা হতাশাগ্রস্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর