Logo
শিরোনাম :
কক্সবাজারে পরিবেশ সংগঠনের সম্পাদক ২০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২০ কেজি গাঁজা সহ শিবগঞ্জের আলী ও রকিব আটক উখিয়ায় মুজিববর্ষের গৃহহীনদের ঘর পরিদর্শন করলেন স্থানীয় সরকার কক্সবাজারের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) শ্রাবস্তী রায় এস আলম গাড়ীর টিকেট কেটে ভূল নাম্বার গাড়ীতে উঠায় যাত্রীকে মারধর ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়। স্পেনকে রুখে দিয়ে সুইডেনের চমক মেসির গোল, তবুও জেতেনি আর্জেন্টিনা রামুতে র‍্যাব’র অভিযানে ২০ হাজার পিছ ইয়াবাসহ আটক-২ রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নেশা জাতীয় ট্যাবলেট, স্বর্ণাংকার ও টাকা উদ্ধার: আটক ৩ উখিয়ায় ২ লাখ ৪০ হাজার প ইয়াবা উদ্ধার! চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

সংবাদপত্রের শীর্ষস্থান কারও জন্য স্থায়ী না যোগ্য নতুন উদ্যোগও শ্রেষ্ঠত্ব পেতে পারে

নাঈমুল ইসলাম খান: / ৭৮ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

বাংলাদেশে যথেষ্ট ভালো মানের কিছু সংবাদপত্র আছে, কিন্তু সার্কুলেশন বা বিজ্ঞাপন থেকে তাদের আয় একেবারে যৎকিঞ্চিৎ। সামগ্রিক ব্যয়ের একটি তুচ্ছ অংশ মাত্র। তাদের মালিক প্রতিষ্ঠান বিশাল ব্যবসায়ী, ভীষণ অর্থশালী এবং দৃশ্যত সংবাদপত্রের ব্যাপারে তারা খুবই উদার, তাই অব্যাহতভাবে ভর্তুকি দিয়ে সংবাদপত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মীদের বেতন ভাতাও নিয়মিত পরিশোধ করছেন।

ধনাঢ্য আরও কিছু সংবাদপত্র মালিক রয়েছেন যারা এক বা একাধিক সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। পত্রিকার মান ভালো তবে সার্কুলেশন একবারে নেই বললেই চলে এবং বিজ্ঞাপনও তেমন পান না, কেবল লোকসান আর লোকসান। কিন্তু তারা কর্মীদের বেতন ভাতা সাধারণত নিয়মিত পরিশোধ করেন থাকেন। তাদের পত্রিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য বুঝার উপায় নেই।

আবার ধনাঢ্যদেরই মালিকানায় এমনও কিছু সংবাদপত্র আছে যেগুলোর বিজ্ঞাপন প্রাপ্তি ও সার্কুলেশন উভয়ই মোটামুটি ভালো। কর্মীরাও সেখানে সন্তুষ্টির সাথে কাজ করেন। নিয়মিত বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদিও পান। কিন্তু তাদের সার্কুলেশন অনেক বাড়ানোর কিংবা সার্কুলেশনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিশেষ কোনো তাগিদ নেই।

সরকারের মিডিয়া তালিকায় দেখা যাবে আরও কম বেশি দুইশত পত্রিকা রয়েছে, যেগুলো সম্পাদকীয় বিবেচনায় উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। এগুলোর অধিকাংশই অনিয়মিত। এদের কেউ কেউ ব্ল্যাকমেইলিং করে, যখনই কয়েকটি বিজ্ঞাপন পায় কেবল তখনই পত্রিকা প্রকাশ। তারা বিজ্ঞাপন জোগাড় করতে ঘুষ দেয় কিংবা মাস্তানির আশ্রয় নেয়।

কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আছে যাদের উজ্জ্বল অতীত ও ঐতিহ্যমণ্ডিত ইতিহাস আছে। গত কয়েকবছর তাদের সার্কুলেশন নেই বললেই চলে এবং সার্কুলেশন তৈরি করতে তাদের ন্যূনতম প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা যায় না। সম্পাদকীয় ভাবেও বলা যায় অযত্নে প্রকাশিত হচ্ছে। সরকারের মিডিয়া তালিকায় প্রভাব খাটিয়ে তারা শীর্ষস্থানীয় রয়ে গেছেন সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে। তাদের মালিক ধনাঢ্য। কর্মীদের বেতন ভাতা ন্যূনতম, তবে মোটামুটি নিয়মিত।

কিছু দৈনিক পত্রিকা আছে যেগুলো সহজ-সরল এবং মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ প্রকাশ করেন। তাদের সাফল্য এবং সামর্থ্য উভয়ই সীমিত। সম্পাদকীয়ভাবে সফল হওয়ার মতো মেধাবী ও যোগ্য সাংবাদিক ও সম্পাদক সেখানে নেই। কোনো উচ্চাশা নেই। অসততাও তেমন করেন না তারা। বিজ্ঞাপনের জন্য ঘুষ দেন এবং স্বল্প সংখ্যক কর্মীকে ন্যূনতম বেতন ভাতা নিয়মিত পরিশোধে সর্বান্তকরণে সচেষ্ট থাকেন।

হাতে গোনা দু একটি পত্রিকা আছে যারা, সীমিত আর্থিক সামর্থ্যওে বড় এবং সুদূর প্রসারী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন। তারা সংবাদপত্রে নতুন চিন্তা চেতনা ও কৌশলের পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। প্রচলিত সংবাদপত্রের ধ্যান ধারণায় কিছু কিছু পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করেন। সংবাদপত্র ব্যবস্থাপনায় তারা অভিনব। সৃজনশীলভাবে নতুন ধারা প্রবর্তন করতে চান। বেতন ভাতা ন্যূনতম কিন্তু নিয়মিত। এদের কেউ কেউ উত্তীর্ণ হয় আর কেউবা কালের গর্ভে হারিয়ে যায়।

বাংলাদেশে সংবাদপত্রের ইতিহাসে কেউ স্থায়ীভাবে দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। কখনও দৈনিক আজাদকে ছাড়িয়ে ইত্তেফাক দাড়িয়েছে, আবার কখনও ডেইলি অবজারভারকে ছাড়িয়ে দাড়িয়েছে ডেইলি স্টার, কখনওবা ইত্তেফাককে ছাড়িয়ে গেছে ভোরের কাগজ, তারও পূর্বে দৈনিক সংবাদকে ছাড়িয়ে দাড়িয়েছে আজকের কাগজ এবং ভোরের কাগজ, তারপর ভোরের কাগজকে ছাড়িয়েছে প্রথম আলো। একসময় প্রথম আলোকেও ছাড়িয়েছে দৈনিক আমাদের সময়। সেই আমাদের সময়কে এখন অনেক অনেক পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে আছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

এই লেখায় সংবাদপত্রের মর্যাদার ক্রম অনুসরণ করা হয়নি। যে পয়েন্ট যখন মাথায় এসেছে সেভাবেই লিখেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর