Logo

পেকুয়ায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করল পুলিশ

পেকুয়া প্রতিনিধি। / ৯২ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২

কক্সবাজারের পেকুয়ায় হুরি জন্নাত (১৭) নামক এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

১৪ জানুয়ারী (শুক্রবার) দুপুর ১২ টার দিকে পেকুয়া থানা পুলিশ উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া পাড়া থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। হুরি জন্নাত পশ্চিম উজানটিয়া পাড়ার মো: রিফাতের স্ত্রী। পেকুয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী ওই নারীর মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে ওসি জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ এখনো মর্গে প্রেরণ করা হয়নি। ওই নারীর স্বামী মো: রিফাত আত্মগোপন রয়েছে। হুরি জন্নাত রিফাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। ১ম বিয়ের ৩ মাস পর রিফাত হুরি জন্নাতকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। ১ম বিয়ের বিষয়টি গোপন দ্বিতীয় স্ত্রীকে গোপন করে।

স্থানীয় সুত্র জানান, ১৩ জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ২ টার দিকে হুরি জন্নাত মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হচ্ছিল। এ সময় অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে হুরি জন্নাতের স্বামী মো: রিফাত পার্শ্ববর্তী কইড়াবাজারের পল্লী চিকিৎসক সুলাল শীলের কাছে গিয়েছিলেন। সুলাল শীল দ্রুত রিফাতের বাড়িতে আসেন। এ সময় দেখতে পান রিফাতের স্ত্রী হুরি জন্নাত আর বেঁচে নেই। এর কিছুক্ষণ আগে পশ্চিম উজানটিয়া পাড়া বাইতুন নুর জামে মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক ছানুবীকেও ডেকে আনা হয়। তিনি হুরি জন্নাতকে ঝাড়ফুক করেছেন। তবে হুরি জন্নাতের মৃত্যু নিয়ে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সংবাদ তার পিত্রালয়ে পৌছে। সকালের দিকে পিতা-মাতাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন স্বামীর বাড়িতে ভীড় করেন। এ সময় হুরি জন্নাতের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। খবর পেয়ে উজানটিয়া ইউপির চেয়ারম্যান এম, তোফাজ্জল করিম শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে ওই স্থানে যান। এ সময় চেয়ারম্যান মুঠোফোনে পুলিশকে রহস্যজনক মৃত্যুর এ খবর অবহিত করেন।

পেকুয়া থানার এস,আই খায়ের উদ্দিন ভূইয়াসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স দুপুরের দিকে পশ্চিম উজানটিয়াপাড়ায় গিয়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা জানান, গত ২ বছর আগে হুরি জন্নাত ও মো: রিফাতের বিয়ে হয়েছে। এর আগে আগে রিফাতের বিয়ে হয়েছিল। ১ম স্ত্রীর নাম মরিয়ম বেগম। তবে ১ম বিয়ের তিন মাস পর গোপনে হুরি জন্নাতকে বিয়ে করে। হুরি জন্নাতের পিতার বাড়ি সদর ইউনিয়নের মছন্যাকাটা গ্রামে। হুরি জন্নাতকে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক অবস্থায় নন জুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পমূলে বিয়ে করে। ওই দম্পতির সংসারে ৬ মাস আগে ১ টি কনে সন্তান জন্মলাভ করে। হুরি জন্নাতের শাশুড়ী উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়ার নেজাম উদ্দিনের স্ত্রী খালেদা বেগম জানান, বুকে ব্যথা লাগছিল পুত্রবধূর। আমরা দ্রæত সময়ে ডাক্তার নিয়ে আসি। এর আগে আমাদের ষ্টেশনে একজন হৌমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রয়েছে। তাকে নিয়ে আসি। দ্বিতীয় দফায় ডা: সুলালকে আনা হয়। তাবিজ দোয়ার জন্য ইমাম সাহেবকে আনা হয়। আসলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পুত্রবধূ মারা যায়। রিফাতের বোন আসমিরা বেগম জানান, অসুস্থ হয়ে হুরির মৃত্যু হয়েছে। এখানে কোন রহস্য নেই। আমরা অত্যন্ত নিরীহ। সমাজপতি আবুল হোসেন বলেন, আসলে মেয়েটি অসুস্থ হয়েছিল। নেজাম উদ্দিনের পরিবার সম্পর্কে আমরা ওয়াকিফহাল। এরা শান্ত শিষ্ট প্রকৃতির। সমাজপতি মোস্তাক আহমদ জানান, আমরা মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত এসেছি। আসলে অসুস্থ ছিল। সাবেক ইউপি সদস্য জামাল হোসেন জানান, এখানে কারো দোষ নেই। আমরাতো মানুষ। দোষ করে থাকলে আমরা কি কাউকে পার পেতে দেবো। বর্তমান ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, অহেতুক কাউকে হয়রানি করলে বিধাতা ক্ষমা করবেনা।

মহিলা মেম্বার তসলিমা বেগম বলেন, অসুস্থতার খবর পেয়ে আমিও রাতে রিফাতের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কোন রহস্য নেই। মৃত্যু হয়েছে স্বাভাবিক। মাষ্টার জাকের উল্লাহ বলেন, কেউ কেউ বিষয়টিকে তালকে তিল করছে। সাবেক মহিলা মেম্বার পারভীন আক্তার বলেন, আমি ২০ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি। কোন মানুষ অহেতুক হয়রানি হলে মেয়েটির আত্মা শান্তি পাবে না। হুরি জন্নাতের পিতা মৌলভী আবু বক্কর বলেন, আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। এর আগে যৌতুক চাওয়া হয়েছিল। নির্যাতনের কিছু রেকর্ড আমরা সংরক্ষণ করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান এম, তোফাজ্জল করিম বলেন, নেজাম উদ্দিনের পরিবার অত্যন্ত শান্ত শিষ্ট। এরপরও তারা যখন সন্দেহ করছে তাই আমি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর