Logo

ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিয়ে বিক্ষোভ উস্কে উঠছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : / ৫২ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

হিজাব পরে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যোগদানের অনুমতি চেয়ে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের হাইকোর্টে দুটি পিটিশনের শুনানি হতে যাচ্ছে। হিজাব পরার দাবিতে একটি কলেজে ছয় শিক্ষার্থীর কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর এই পিটিশন দুটি দাখিল করা হয়েছিল।

ওই ছয় শিক্ষার্থীকে হিজাব পরে ক্লাসে যোগ দিতে বাধা দিয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে হিজাব পরতে পারে তবে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর তাদের সেটি খুলে ফেলতে হবে। কর্তৃপক্ষের এই অবস্থান ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, সংবিধানেই নাগরিকদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

কর্ণাটকের উদুপি জেলার ওই কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে রাজ্যের অন্যান্য কলেজগুলোর ওপর। বৃহস্পতিবার জেলার কুন্দাপুরের একটি কলেজে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই কলেজের ফটকগুলোতে একদল তরুণ দাঁড়িয়ে আছে এবং তারা হিজাব পরিহিত শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

ভিডিওতে, এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য তাদের ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দিতে অনুরোধ করতে শোনা যায়। কিন্তু অধ্যক্ষ তাদের হিজাব পরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকার করেন।

ভারতের এই অঞ্চলটিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজ্যটিতে ক্ষমতায়ও রয়েছে বিজেপি।

শিক্ষার্থীদের হিজাব পরে ক্লাসে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার একদিন আগে, একদল ছেলে গেরুয়া শাল পরে কুন্দাপুরের ওই কলেজে এসেছিল। এই রঙটি হিন্দুত্ববাদের প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। এই ছেলেরা মুসলিম শিক্ষার্থীদের হিজাব পরার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতো। রাজ্যের আরও তিনটি কলেজেও একই রকম বিক্ষোভ দেখা গেছে।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী নাগেশ বিসি কলেজ কর্তৃপক্ষকে সমর্থন করে বলেছেন গেরুয়া স্কার্ফ ও হিজাব উভয়ই ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা উচিত।

তিনি বিবিসি হিন্দিকে বলেছেন, সরকার শিগগিরই কর্ণাটক হাইকোর্টে তার অবস্থানের রূপরেখা উপস্থাপন করবে।

মুসলিম শিক্ষার্থীদের এক জন জানিয়েছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অবস্থানের কারণে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।

উদুপি কলেজের শিক্ষার্থী আলমাস এএইচ বলেন, ‘বেসরকারি কলেজের ব্যয় বহন করতে সক্ষম নয় বিধায় আমরা সরকারি কলেজে এসেছি। যখন অন্যরা ধর্মীয় আচার পালন করতে পারে তখন আমরা কেন বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছি?’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর