Logo

৪ ঘণ্টায় একই রক্তের দুই গ্রুপ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি / ৩৮ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ, ২০২২

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের সিঙ্গিপাড়া গ্রামের প্রসূতি লতা বেগমে (২০) গর্ভপাত সমস্যার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রয়োজন পরে রক্তের। সেজন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার জন্য তাকে রক্ত পরীক্ষার কারার পরামর্শ দেয় ডাক্তার। তাদের পরামর্শে ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করায় সে। কিন্তু প্রথম পরীক্ষায় রক্তের গ্রুপ ‘বি’ পজিটিভ আসলেও ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা পাল্টে হয়ে যায় ‌‘এ’ পজিটিভ।

৪ ঘণ্টাব্যাবধানে দু’টি রিপোর্টে দুই রকম রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করে দেয় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মারিয়াম খানম। আর এমন ঘটনা ঘটেছে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে। এ ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

প্রসূতির স্বজনেরা জানান, উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের সিঙ্গিপাড়া গ্রামের ২০ বছর বয়সী লতার গর্ভপাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এসময় তাকে চিকিৎসার জন্য টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার রক্তশূন্যতা দেখা দিলে ডাক্তার প্রসূতির রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে রক্ত যোগার করতে বলেন। বুধবার (৯ মার্চ) দুপুর ৩টায় ওই প্রসূতির রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে রক্ত দেয়া হয়। এরপরই তার রক্তের গ্রুপ ‘বি’ পজিটিভ বলে রিপোর্ট দেয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই শিক্ষার্থী ‘বি পজিটিভ’ রক্ত দিতে আসে লতা বেগমকে। এসময় ওই একই ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে আবারো লতা বেগমের রক্ত নিয়ে ক্রস ম্যাচিং করলে সেখানে তার রক্তের গ্রুপ আসে ‘এ’ পজিটিভ। আর দু’টি রিপোর্টই দেয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মারিয়াম খানম।

ওই প্রসূতির স্বামী ইসলাম মোল্লা বলেন, রক্তের গ্রুপ দুই রকমের আসায় আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই। তাকে রক্ত দেওয়ায় বিলম্ব হতে থাকে। হঠাৎ করে ‘এ’ পজিটিভ রক্ত কোথায় পাবো চিন্তায় থাকলে পরে স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী এক ব্যাগ ‘এ’ পজিটিভ রক্ত দেন। এই ভুলের কারণে অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

এ বিষয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মারিয়াম খানমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক কবির শেখ বলেন, ক্রস ম্যাচিংয়ের সময় তাড়াহুড়ো করায় অন্য রোগীর সঙ্গে রক্তের পরিবর্তন হয়েছে। তাই এরকম ভুল হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি মিটিয়ে ফেলেছি।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এমন ভুলের জন্য প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত। যে পরীক্ষা করেছেন তিনি সনদপ্রাপ্ত কি না সেটা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর