Logo

পদ্মা সেতুতে উৎসুক মানুষের ঢল

ডেইলী উখিয়া নিউজ ডেস্ক : / ৩৩ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২

মনের মাঝে বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। স্বপ্নের পদ্মা সেতু ঘিরে হাজারো স্বপ্ন-আকাঙ্খা। অতঃপর দীর্ঘকালের প্রতিক্ষার প্রহর শেষ। সেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু যখন চালু হলো আর তাতে পা রাখবো না তা কি হয়? তাই নিষেধাজ্ঞা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাশ কাটিয়েই হাজার হাজার উৎসুক জনতা হেঁটেই পদ্মা সেতুতে ওঠে যান। অনেকে প্রবল উদ্দীপনায় সেতুর উপরে দৌড়াতে থাকেন। কেউ কেউ বলতে থাকেন, ‘স্বপ্ন আজ সত্যি হলো.., জয় বাংলা’। পদ্মা সেতুর ওপরে পা রেখে এভাবে যেন ইতিহাসের স্বাক্ষী হওয়ার প্রবণতা ছিল সবারই মাঝে।

শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল কাঙ্খিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরপরই জাজিরা প্রান্তে চলে যেতেই মাওয়া প্রান্তে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষ উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনায় ফেটে পড়ে সেতুতে ওঠে হেঁটে বেড়িয়েছেন। উৎসুক মানুষের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসের ঢেউ এসময় মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর বেশ খানিকটা জায়গা ছাপিয়ে যায়। যদিও উদ্বোধনের এ দিনটিতে তথা শনিবারের জন্য সর্বসাধারণের এভাবে সেতুতে ওঠার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল, কিন্তু উপস্থিত মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও উচ্ছ্বাসের কাছে সবকিছুই ছিল যেন তুচ্ছ। তারের বেড়া প্রশস্ত ছিদ্র করে অনেকে মূল পদ্মা সেতুতে ওঠে যান। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মানুষের আবেগের সম্মান দিয়ে সেভাবে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অবশ্য কিছু সময় পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেতুর ওপরে ওঠা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেন।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ২৫ জুনকে অনেকেই ঐতিহাসিক দিন হিসেব আখ্যায়িত করেছেন। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর সরাসরি সুবিধাভোগী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের কাছে দিনটি অবশ্যই স্মরণীয় ও বরণীয়। এ কারণে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে মাওয়া জাজিরা প্রান্তে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হন।

উদ্বোধনকে ঘিরে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় স্থলে, জলে এবং আকাশপথে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তায় তৎপর ছিল স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। পুরো এলাকা বিশেষ নজরদারিতে রেখেছিলেন বিভিন্ন সংস্থার বিপুল সংখ্যক গোয়েন্দারা। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পুরো উৎসব ঘিরে বজায় ছিল শান্তি-শৃঙ্খলা।

দেখা গেছে, পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যদের পাশ কাটিয়েই বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ারে ভেসে দৌড়ে অনেকে সেতুতে ওঠে যান। মুহূর্তেই হাজার হাজার উৎসুক জনতার ঢল নামে সেতুর উপরে। হাত উঁচিয়ে নিজের মনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন অনেকে। যে যার মতো দ্রুত ‘সেলফি’ উঠিয়েও ইতিহাসের স্বাক্ষী হচ্ছিলেন। বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে বেশকিছু উৎসুক নারীকেও সেতুতে উঠতে দেখা যায়। পায়ে হেঁটে সেতুতে হাজার হাজার জনতা ঘুরে বেড়ান। দু’হাত উপরের দিকে ছড়িয়ে অনেকে যেন স্বাধীন মুক্ত আকাশে ডানা মেলছিলেন। কেউ কেউ মোটরসাইকেল নিয়েও ওঠেন। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জনতার কাউকে সেতুতে উঠতে বাধা প্রদান করতে দেখা যায়নি। কেউ কেউ সেতুর পাশের সীমানা বেড়ার নিচ দিয়েও সেতুতে উঠতে দেখা গেছে। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় তারা সেতুর ওপরে কিছু এলাকা পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে সেতু থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উৎসুক মানুষগুলোকে শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেন।

সময়ের আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর