Logo

স্বজনদের হারিয়ে বেঁচে রইল শুধু নবদম্পতি

ঢাকা প্রতিনিধি। / ৩১ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বিআরটি ফ্লাইওভারের গার্ডার চাপায় দুই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারালেও প্রাণে বেঁচে গেছেন হৃদয় (২৫) ও রিয়া মনির (২১) নামের এক নবদম্পতি।

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে স্বজনেরা নবদম্পতিকে নিয়ে কনের বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে উত্তরার জসিমউদ্দিন মোড় সংলগ্ন সড়কে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারের ওপর বিআরটির প্রকল্পের গার্ডার পড়ে।

প্রাইভেটকারে আরোহী ছিলেন সাত জন। ছিলেন হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৪০), কনে রিয়া মনির খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুধু বেঁচে গেছেন হৃদয় ও রিয়া। তাদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনেরা জানান, গত শুক্রবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা আজ ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানে আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।

হৃদয়ের চাচাতো ভাই রাকিব (১৯) বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা দুর্ঘটনার খবর পান। কিন্তু এতো সময় পরও গাড়ি থেকে মরদেহগুলো বের করতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। ভেতরে যদি কেউ বেঁচে থেকেও থাকেন তাহলে এতোক্ষণে মারা গেছেন।

রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার কীভাবে এভাবে অব্যবস্থাপনার মধ্যে কাজ করছে? আমরা কার কাছে বিচার দিব! আমাদের অন্তত লাশগুলো বের করে দিক। কিন্তু এখানে তো কোনো উন্নত যন্ত্রপাতি নেই।’

দুর্ঘটনাস্থলে স্বজনেরা আসছেন। তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা লিভার দিয়ে গার্ডার উঁচুর করে তুলে গাড়ি বের করার চেষ্টা করছেন। তবে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চেষ্টায়ও গার্ডার সরেনি। এখন ক্রেন আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মো. মহসিন জানান, ফ্লাইওভারের গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ মোট ৫ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ভর্তি করেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর উত্তরা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি সরিয়ে নিতে পুলিশ এবং উত্তরা ফায়ার সার্ভিস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার দুই ঘণ্টা পর মেট্রোরেলের ব্যবহৃত ক্রেন আনা হয়।

এর আগে গত ১৫ জুলাই গাজীপুরে একই প্রকল্পের ‘লঞ্চিং গার্ডার’ চাপায় এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক ও একজন পথচারী আহত হয়েছিলেন। এরপর প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। তারপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

সাধারণ পথচারীদের অভিযোগ, কোনো সেফটি ছাড়াই বিআরটি প্রকল্পের এই নির্মাণ কাজ করছে। প্রকল্প ইউনিট সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টাটার দিকে সড়ক বন্ধ না করেই একটি ক্রেন দ্বারা একটি গার্ডার উঠানোর চেষ্টা করে পরবর্তীতে ক্রেনটি উল্টে ঢাকা মেট্রো-গ ২২-৬০০৮ গাড়িটিকে চাপা দেয় এতে ঘটনাস্থলে গাড়িতে থাকা দুই শিশুসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়।

এদিকে ঘটনার পর কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে উত্তরাগামী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক উপ কমিশনার (উত্তরা) সাইফুল হক। তিনি বলেন, উত্তরা থেকে সীমিত পরিসরে ঢাকার দিকে যান চলাচল করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর