Logo

তার ১২ বিয়ে, ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতানো

নিজস্ব প্রতিবেদক। / ২৩ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

মো. মামুন ইসলাম (৩০) ওয়ার্কশপ কর্মচারী। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় দিতেন উপসচিব, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা। এমন পরিচয়ে অন্তত ৫০ জনের অধিক তরুণীর সঙ্গে গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক। চ্যাটিং কিংবা ভিডিও কলে স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে নারীদের গোপন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরে তা ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে তরুণীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন মামুন।

এছাড়াও সরকারি অফিসার পরিচয়ে ১২টির বেশি বিয়ে করেছেন মামুন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন ও অপারেশনস এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (৩১ আগস্ট) দিনাজপুরের আমতলী বাজার এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি নকল নিকাহনামা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলির ভুয়া অফিস আদেশের অনুলিপি ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম।

তিনি বলেন, মামুনের আসল নাম মো. মমিনুল ইসলাম। তিনি প্রতারণার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ নারীকে বিয়ে করেছেন। বিয়ে করা সবার কাছ থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার মোবাইল ফোনে ৫০-এর অধিক মেয়ের সঙ্গে ভিডিওকলে কথোপকথন ও অসংখ্য ন্যুড ভিডিও পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার মামুন কখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী উপসচিব, কখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা আবার কখনো ইঞ্জিনিয়ার পরিচয়ে একাধিক চাকরিজীবী ও সাধারণ তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে ওই তরুণীদের সুবিধাজনক স্থানে বদলি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিদেশ গমনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।

‘নিজের আসল পরিচয় গোপন করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতেন মামুন। ইন্টারনেট বা ফেসবুক থেকে তার শরীর ও চেহারার সঙ্গে মিলে যায় এমন শারীরিক গঠনের মুখে মাস্ক পরা কিংবা মুখাবয়ব অস্পষ্ট এমন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ছবি নিজের ছবি হিসেবে ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন তিনি।’

‘এমনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন মামুন। তিনি নিজেকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলে পরিচয় দেন। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হয়। তবে মামুন কখনো ওই তরুণীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতেন না।’

এস এম আশরাফুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার মামুন সরকারি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত আছেন এমন অজুহাতে সরাসরি দেখা না করে তরুণীর নামে কাজী অফিসের সিলমোহরযুক্ত ভুয়া কাবিননামা বানিয়ে কুরিয়ার করে দেন। মেয়েটিকে তাতে সই করে নিজের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে বলেন তিনি। ভুয়া কাবিননামায় সই করার কিছুদিন পর মামুন মেয়েটির বাসায় যান ও ইসলামি শরিয়া মোতাবেক বিয়ে করে কিছুদিন একসঙ্গে বসবাস করেন। সেখান থেকে চলে আসার পর তিনি মেয়েটিকে আপত্তিকর ও অশালীন অবস্থায় ভিডিওকলে এনে তা ধারণ করে রাখতেন।

পরবর্তী সময়ে মামুন ওই ভিডিওগুলো অনলাইনসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয়-হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করতে থাকেন। একপর্যায়ে মেয়েটির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি।

পরে ভুক্তভোগী ওই নারী পল্টন থানায় পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন ও অপারেশনস টিম মামুনকে গ্রেপ্তার করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর