Logo

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু-গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ আহত ২৫ রোহিঙ্গাদের হাতে অস্ত্র কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক,উখিয়া। / ১৯৬ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

 

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পুরাতন ও নতুন রোহিঙ্গাদের মধ্যে পরপর চার দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। তাদের এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ একজনকে গুরুতর অবস্থায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন রোহিঙ্গা অপহরণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুতুপালং ২নং পূর্ব পশ্চিম ক্যাম্পে ডাকাত ছৈয়দের বাড়ীর পাশে এ ঘটনাটি ঘটে। প্রশ্ন উঠেছে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের হাতে এত অস্ত্র কেন,কে দিয়েছে এই অস্ত্র।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ক্যাম্পজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিরুজ্জামান চৌধুরী।তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে গত চার দিন ধরে থেমে থেমে সংঘর্ষ হচ্ছিল। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন ১৪ এপিবিএন’র অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো.আতিকুল ইসলাম।তিনি জানান, কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুন্না গ্রুপের সঙ্গে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইসলাম মাহাদ গ্রুপের মধ্যে ইয়াবা পাচার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে শনিবার ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে এটি প্রকাশ্যে রূপ নেয়। রবিবারও থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষের ৩০টিরও বেশি ঝুঁপড়ি ঘর এবং বেশ কয়েকটি ওয়াটার সাপ্লাইয়ের ট্যাংক ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুই গ্রুপের সদস্যরা পালিয়ে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দা ও চুরির আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন রহমত উল্লাহ, সাইফুল্লাহ, নুর মোহাম্মদ, মো: রফিক, মো: ইদ্রিস, মো: অলিউল্লোহ, মো: ইলিয়াছ,এহেছান উল্লাহ, এনায়েত উল্লাহ, আরফাত হোসেন। কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা জালাল আহমদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে রেজিষ্ট্রার্ড ও আনরেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের দুই গ্রুপের মধ্যে চাঁদাবাজি, অপহরণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত বুধবার থেকে দফায় দফায় গুলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রোববার আবারো ঘটনা ঘটে লম্বাশিয়া মাস্টার মুন্না এবং হাফেজ জাবের ও সাইফু্র গ্রুপের মধ্যে। এতে মুন্না গ্রুপের ৫ জন আহত হয়। এছাড়া ৩ জন পহরণ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, আহতদের কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷এর আগে শনিবার সংঘর্ষের ঘটনায় নারিসহ ৭ জন আহত হয়েছে। ২ মহিলাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নুর আলম নামে গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গাকে প্রথমে কক্সবাজার পরে চট্টগ্রাম হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। সে কুতুপালং টু-ইস্ট ক্যাম্পের আহমদ হোসেনের ছেলে। তার অবস্থা আশংকাজনক।শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার জানান, যাদের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই গ্রুপেই আছে। সেই সুত্র ধরে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। সাথে সাথে পুলিশ, বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে সিআইসিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। রোহিঙ্হাদের হেড মাঝি মো: আমিন জানান, মধুরছড়া লম্বাশিয়া ক্যাম্পের মরগেছ পাহাড়ে ইয়াবা ডন মোহাম্মদ উল্লাহ মাসিক বেতন দিয়ে ১৫০ জন যুবককে রাখা হয়েছে। তারা ইয়াবা পাচারের গতি বিধি লক্ষ করে প্রসাশনের লোক জনের খবরাখবর মোহাম্মদ উল্লাহকে জানান। তার গ্রুপের সদস্যদের জন প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এদিকে রোহিঙ্গা আবুল কালামের স্ত্রী নুর জাহান বেগম বাদী হয়ে সন্ত্রাসী আব্দুল হামিদ সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায় করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দু-গ্রুপের মধ্যে প্রতি নিয়ত অপহরণ চাদা বাজি গুলাগুলি করে আসলেও প্রশাসনের নাগালের বাইরে থাকে তারা। কেউ তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে বা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না রহস্য জনক কারণে। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মো: খলিলুর রহমান ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য শনিবার সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ মো: আরিফের কার্যালয়ে বৈঠক হলেও রোহিঙ্গারা তা না মেনে সন্ত্রাসী কার্যকালাপ চালিয়ে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর