Logo

টেকনাফে সমুদ্র উপকূলে ঝোঁপের মধ্যে প্রাচীন মসজিদের সন্ধান

টেকনাফ প্রতিনিধি। / ১১৩ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২১

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সমুদ্রের পাড়ে প্রাচীন ও ক্ষুদ্রতম একটি মসজিদের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা এলাকায় অবস্থান এই মসজিদের। সোমবার দুপুরে কয়েকজন যুবক জঙ্গলটি পরিষ্কার করে মসজিদটির পুরো চিত্র বের করে আনার চেষ্টা করে।

এলাকাবাসী জানান, প্রাচীন এই মসজিদ সম্পর্কে তারা পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শুনে আসছেন। এমন কি কয়েকশ বছর পুরনো মসজিদ বলছিলেন তারা। মূলত মসজিদটি জঙ্গলে ঢাকা ছিল বলে কেউ সেখানে যেতেন না। মসজিদটির আশপাশে গাছ ও তার শেকঁড় অন্যান্য বনলতা যা ভবনটির বাইরের অংশকে ঢেকে রেখেছে।

সরেজমিনে মসজিদের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। মসজিদটির দেয়ালঘেঁষে একটি বড় মিম্বার রয়েছে, বাইরের দৈর্ঘ্য (উত্তর-দক্ষিণ) মিম্বারসহ ১৬ফুট এবং বাইরের প্রস্থ (পূর্ব-পশ্চিম) ১২ফুট। মসজিদটির ভেতরের দৈর্ঘ্য ৭ফুট এবং প্রস্থ ৬ফুট। মসজিদটির একটি মেহরাব রয়েছে এবং দেয়ালে ছোট ছোট কয়েকটি খোঁপ রয়েছে। মসজিদটি পোড়া ইট, বালু, চুন এবং সুরকি দিয়ে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, পূর্ব পুরুষদের কথা মতে এটি কয়েকশ বছর আগের পুরনো মসজিদ। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরও এখানে লোকজন নামাজ আদায় করেছিল। এ প্রাচীন মসজিদটি পুরাকৃর্তি অক্ষুন্ন রেখে নতুন রূপে সংস্কার করলে সেটি ঐতিহ্য হয়ে থাকবে। সংস্কারের পর মসজিদের ভেতরে প্রাচীন ক্ষুদ্র মসজিদের পুরাকীর্তি দৃশ্যমান হলে অনেক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরাও দেখতে ভিড় করবেন।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আজিম উল্লাহ বলেন,মসজিদটি অনেক বছরের পুরনো। আমরা ছোট থেকেই শুনে আসছি এখানে একটা মসজিদ আছে। পূর্ব পুরুষরা বলেছিলেন,বহু বছরে বিদেশ থেকে কয়েকজন পীর সাহেব এদেশে এসে ইসলাম প্রচার করতেন। রাতে সেখানে তারা আত্মগোপন করতেন। তারাই সম্ভবত এই মসজিদটি তৈরি করেছিলেন নামাজ আদায়ের জন্য।

টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভের পশ্চিমে বনলতার আড়ালে একটি মসজিদের সন্ধান মেলেছে। এটি যে ক্ষুদ্রতম প্রাচীন মসজিদ তাতে কোন সন্দেহ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের পশ্চিমে কোন ধরনের ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মসজিদটির সংস্কার করা যাচ্ছে না। অনুমতি পেলে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এটি সঠিক ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শনগুলোকে সংরক্ষণ করে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে পারলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর