Logo

ঈদগাঁও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কমিটি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

স্টাফ রিপোর্টার,ঈদগাঁও / ১০১ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২১

সম্প্রতি ঈদগাঁও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কমিটি নামে একটি কমিটি ঘোষণা করেছে জেলা পরিষদ। পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে অনুমোদিত উক্ত কমিটি নিয়ে বৃহত্তর ঈদগাঁওর ক্রীড়ামোদীও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, হাস্যরস এবং মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ রাশেল স্টেডিয়ামের ৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পর্ষদ ও ১০ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এতে উপদেষ্টামন্ডলী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী (চেয়ারম্যান, কক্সবাজার জেলা পরিষদ), কানিজ ফাতেমা আহমদ এমপি (সংরক্ষিত নারী আসন), লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ (চেয়ারম্যান উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার), মাস্টার নুরুল আজিম (মুক্তিযোদ্ধা), আবু তালেব (সভাপতি ,কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ), মাহমুদুল করিম মাদু ( সাধারণ সম্পাদক ,কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ)। সোহেল জাহান চৌধুরী (সভাপতি, ঈদগাঁও ইউনিয়ন আ’লীগ)কে আহবায়ক ও সেলিম আকবর ( শ্রমিক নেতা)কে সদস্যসচিব মনোনীত করে অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন ( অধ্যক্ষ, ফরিদ আহমদ ডিগ্রি কলেজ), সেলিম মোরশেদ ফরাজী (সভাপতি ,জালালাবাদ ইউনিয়ন আ’লীগ), সাইফুল ইসলাম (সাধারণ সম্পাদক,ইসলামাবাদ ইউনিয়ন আ’লীগ), তারেক আজিজ (সাধারণ সম্পাদক, ঈদগাঁহ ইউনিয়ন আ’লীগ), মমতাজুল ইসলাম ( সাধারণ সম্পাদক জালালাবাদ ইউনিয়ন আ’লীগ), শাহজাহান চৌধুরী (সাধারণ সম্পাদক, ইসলামপুর ইউনিয়ন আ’লীগ), মোঃ শরীফ কোম্পানি (কক্সবাজার সদর উপজেলা আ’লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক ),ওসমান সরওয়ার ডিপু(সহ-সভাপতি,কক্সবাজার সদর উপজেলা যুবলীগ)কে সদস্য মনোনীত করা হয়। ঐ কমিটিতে বিতর্কিত মানুষের অনুপ্রবেশ উল্লেখ করে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটাক্ষপূর্ণ ও শ্লেষাত্মক ভাষায় নিন্দা ও ধিক্কার জানানো অব্যাহত রয়েছে।

সদর যুবলীগ সাধারন সম্পাদক রাজিবুল হক চৌধুরী লিখেছেন- ক্রিড়াঙ্গনের জন্য দুঃসংবাদ!!
ফুটবল ম্যাচ কয় মিনিটের, কয় বলে এক ওভার, ব্যাটমিন্টন কোর্ট কয় গজের তা জানা নেই এবং খেলাধুলার সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিলনা এমন লোক দিয়ে আহবায়ক কমিটি বেমানান ।
পাশাপাশি নিশ্চয় খেলার মাঠটি যখন ঈদগাহ ইউনিয়নে তাতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কে এড করা দরকার ছিল। মাননীয় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মাননীয় মহিলা সাংসদের এই বিষয়ে আরো সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন ছিল !!!
এ নিয়ে ঈদগাঁওর সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমা লোচনার ঝড়। অনেকে এ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয়তা ও ঘোষিত কমিটি নিয়ে প্রকাশ করছে নিন্দা, ক্ষোভ ও ভৎসনা।

জানা যায়, জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী বদিউল আলম ও মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নূরুল আজিমের যৌথ উদ্যোগে ২০১৩ সালে ঈদগাহ কলেজের সুপরিসর খেলার মাঠটিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রুপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঈদগাঁও কলেজ কর্তৃপক্ষের মৌখিক সম্মতিতে প্রাথমিকধাপে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। পরে বিভিন্ন ধাপে জেলা পরিষদ আংশিক দর্শক গ্যালারী,মাঠের চার পাশে বেঞ্চ নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের নামে গেইট নির্মাণ, মাঠ উন্নয়ন ও সংস্কারে অর্থ বরাদ্ধ দেয়।

স্টেডিয়াম বাস্তবায়নের কাজে গতিশীলতা আন তে প্রকৌশলী বদিউল আলম আলমকে সভাপতি ও মাষ্টার নুরুল আজিমকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয় ঈদগাঁও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম বাস্তবায়ন পরিষদ। ঐ কমিটি মাঠের ডিজিটাল সার্ভে সম্পন্ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষে মাস্টারপ্ল্যাান তৈরীর মাধ্যমে প্রকল্পপ্রস্তাব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেন।

২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর জেলা পরিষদে পৃষ্টপোষকতায় বৃহত্তর ঈদগাঁওর সকল মাধ্যমিক স্কুল,মাদরাসা,প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্কাউট ও কাব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান এই অঞ্চলের সকল শ্রেণীপেশার মানুষের কাছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরী করে এবং বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম বাস্তবায়ন পরিষদ ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।

ঈদগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদ সভাপতি, সদর আ’লীগের সভাপতি আবু তালেব বলেন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠটি কলেজের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি। মাঠ হস্তান্তর কিংবা সাময়িক ইজারার বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে জেলা পরিষদ বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ লিখিত চুক্তি বা সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষর করেনি।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রকৌশলী বদিউল আলম বলেন, ঈদগাঁও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম বাস্তবায়ন পরিষদ নামে গঠিত স্বাধীন ও স্বতন্ত্র একটি কমিটি ২০১৩ সাল থেকে তৎকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা,উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ করে এই পর্যায়ে এসেছে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর মূঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর